কলম্বো, শ্রীলঙ্কা – টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ স্টেজে ভারত ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল মুখোমুখি হওয়ার জন্য রবিবারের ম্যাচে হাজারো ভক্তের উড্ডয়ন দেখা গেছে। দুই প্রতিবেশী দেশের ভক্তরা শ্রীলঙ্কার সর্ববৃহৎ স্টেডিয়ামে ৩৫,০০০ টিকিট বিক্রি হয়ে সম্পূর্ণ ভরা অবস্থায় উপস্থিত হতে প্রস্তুত।
ম্যাচের টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হওয়ার পর হোটেল ও ভ্রমণ খরচে তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে। কলম্বোর বেশিরভাগ হোটেল রুমের দাম সাধারণ $১০০‑$১৫০ থেকে বেড়ে $৬৬০ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা দুগুণের বেশি বৃদ্ধি।
ফ্লাইটের দিকেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চেন্নাই থেকে উড়ান, যা শহর থেকে প্রায় এক ঘন্টার দূরত্ব, তার টিকিটের দাম $৬২৩‑$৭৫৬ পর্যন্ত তিনগুণের বেশি বেড়েছে। দিল্লি থেকে উড়ানের দামও ৫০% বেশি হয়ে প্রায় $৬৬৬ এ পৌঁছেছে।
স্থানীয় ভ্রমণ সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ম্যাচের নিশ্চিত হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাহিদা বাড়ায়, ফলে প্রধান শহর থেকে কলম্বোতে ফ্লাইট পূর্ণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি ভক্তদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস (SLAITO) এর সভাপতি নালিন জয়সুন্দেরা উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ ভক্ত প্যাকেজে ভ্রমণ করছেন, যার মোট খরচ $১,৫০০‑$২,০০০ বা তারও বেশি হতে পারে, টিকিট, হোটেল ও ফ্লাইটের মূল্যের ওপর নির্ভর করে।
শ্রীলঙ্কার পর্যটন শিল্প দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়। সরকার আরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রাখছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট ও সাইক্লোনের পর যা ৬৫০ জনের প্রাণহানি ঘটিয়েছিল।
শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান বুদ্ধিক হেভাওয়াসমের মতে, ফেব্রুয়ারির প্রথম দশ দিনে প্রায় ১০০,০০০ দর্শনার্থীর মধ্যে ২০% ভক্ত ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের জন্যই এসেছেন। এই সংখ্যা দেশের পর্যটন আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।
শ্রীলঙ্কা নিজেকে রাজনৈতিক বিরোধী দলের মধ্যে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে আরও এমন ম্যাচের আয়োজন করা যায়। এই কৌশলটি দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রকে শক্তিশালী করতে এবং পর্যটন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে।
ম্যাচের আগে উভয় দলের ভক্তদের উড্ডয়ন, হোটেল ও ফ্লাইটের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কার হোটেল শিল্পে উচ্চ দখল দেখা গেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়িকদের জন্য স্বল্পমেয়াদে লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
শ্রীলঙ্কা সরকার ও পর্যটন সংস্থাগুলি আশা করে, এই ধরনের বড় ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



