শুক্রবার হাভানা শহরের Ñico López শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি। জ্বালানি ঘাটতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় কালো ধোঁয়া হাভানা উপসাগরের দিকে উঁচু হয়ে উঠেছিল, যা শোধনাগারের কাছাকাছি দুইটি তেল ট্যাঙ্কার জোড়া নোঙর করা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। ধোঁয়ার ঘনত্ব শহরের কিছু অংশে দৃশ্যমান ছিল, তবে দ্রুত অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা আগুনটি দমন করতে সক্ষম হয়।
কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক্স-এ পোস্ট করে জানায় যে, কোনো আহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আগুনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায় যে, অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কিউবার জ্বালানি ঘাটতি বাড়ার মূল কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলা থেকে আগের মতো দৈনিক প্রায় ৩৫,০০০ ব্যারেল তেল কিউবায় পৌঁছাচ্ছিল না।
ভেনেজুয়েলা, কিউবার দীর্ঘস্থায়ী মিত্র, জানুয়ারি ৩ তারিখে ক্যারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সেই সময়ে ভেনেজুয়েলা কিউবাকে প্রায় ৩৫,০০০ ব্যারেল তেল সরবরাহ করছিল, যা এখন আর সম্ভব নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করে, তেল সরবরাহের মূল পথ বন্ধ করে এবং তেল বিক্রি করা দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই নীতি কিউবার জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতাদেরকে “একটি চুক্তি করুন” এমন আহ্বান জানিয়েছেন এবং তেল ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ হলে পরিণতি স্বীকার করতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই প্রকাশনা কিউবার সরকারকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলেছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়ালিসিস রোগী এবং পাম্পিং স্টেশনগুলো প্রভাবিত হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা সীমিত হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিমান জ্বালানির ঘাটতি বিমান সংস্থাগুলোর কিউবায় সেবা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে, এবং যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এই পরিস্থিতি পর্যটন শিল্পকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন অফিস (FCDO) জানিয়েছে যে, কিউবা জ্বালানি রেশনিং, জনসেবা হ্রাস এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও পর্যটন খাতে সাময়িক পরিবর্তন গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ সীমিত জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছে।
অবস্থা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে যখন দুইটি মেক্সিকান জাহাজে ৮০০ টন মানবিক সাহায্য সামগ্রী হাভানা উপসাগরে পৌঁছেছে। এই সাহায্য কিউবার জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিউবায় তেল আমদানি নিষেধাজ্ঞাকে “একপক্ষীয় অর্থনৈতিক জবরদস্তির চরম রূপ” বলে সমালোচনা করেছেন। তারা এই নীতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি সংকটের তীব্রতা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কিউবা, ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং ভবিষ্যতে সমাধানের পথ নির্ধারণে বহু দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



