বহিরাগত ইরানীয় রাজকুমার রেজা পাহলভি গত শুক্রবার ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জন্য নতুন আহ্বান জানালেন। তিনি জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর ইরানীয় জনগণকে শনিবার থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে বলেছিলেন। এই আহ্বানটি দেশের সাম্প্রতিক বিশাল বিক্ষোভের পর পুনরায় দমনের মুখে থাকা জনগণের জন্য একটি প্রেরণা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
রেজা পাহলভি ১৩ ফেব্রুয়ারি মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন। সম্মেলনের শেষে তিনি ইরানীয় সম্প্রদায়কে সরাসরি তার বার্তা পৌঁছে দেন। তার বক্তব্যে ইরান সরকারের কঠোর দমন নীতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সেই সম্মেলন থেকে বেরিয়ে তিনি ইরানীয় নাগরিকদের জানিয়েছেন, আগামী শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, রাত আটটায় ঘর ও ছাদ থেকে স্লোগান তুলতে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গৃহস্থালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় না গিয়ে বাড়ি থেকে প্রতিবাদ করা উত্তম। এই পদ্ধতি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং সেই সময় থেকে ইরানে কখনো ফিরে আসেননি। তিনি শেষ শাহ শাসনের শেষ উত্তরাধিকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তার বহিরাগত অবস্থান তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ দমনের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর প্রদান করে।
গত মাসে ইরানে ব্যাপক প্রতিবাদে সড়কগুলো ভরে ওঠে, তবে ইরান সরকার দ্রুত সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে আন্দোলনকে দমন করে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ, গুলিবিদ্ধের হুমকি এবং ব্যাপক গ্রেপ্তার প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি রেজা পাহলভির আহ্বানকে আরও জরুরি করে তুলেছে।
রেজা পাহলভি এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির সম্ভাবনা বিবেচনা করে জনগণকে বাড়ি ও ছাদ থেকে উচ্চস্বরে দাবি জানাতে বলছেন। তিনি দাবি করেন, একত্রিত সুরে উচ্চস্বরে শাসকের নিন্দা করা উচিত। এভাবে জনগণের ঐক্য ও দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ পাবে, যা দখলদার শাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এক্সে তার বার্তায় তিনি ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত আটটায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই দিন ঘরে বসে উচ্চস্বরে স্লোগান তোলার মাধ্যমে ইরান সরকারের নিন্দা করা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, ঐক্যবদ্ধ জনগণ অবশেষে শাসনের দখলদারকে পরাজিত করবে।
ইরান সরকার পূর্বে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে জনসমাবেশকে সীমাবদ্ধ করার কথা জানিয়েছে। তবে রেজা পাহলভির আহ্বান আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং ইরানীয় বিক্ষোভের নতুন রূপের ইঙ্গিত দেয়। সরকারী সূত্রে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।
বহিরাগত ইরানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই আহ্বানকে সমর্থনকারী গোষ্ঠী বাড়ছে, যা ইরান সরকারের উপর অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদি ঘর থেকে উচ্চস্বরে স্লোগান তোলা ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই ধরনের গৃহস্থালীর প্রতিবাদ সরকারকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসাতে পারে।
রেজা পাহলভির এই নতুন আহ্বান ইরানের রাজনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি যে রূপে গৃহস্থালীর মাধ্যমে প্রতিবাদকে উৎসাহিত করছেন, তা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমিয়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। ভবিষ্যতে এই আন্দোলনের বিকাশ ইরান সরকারের নীতি পরিবর্তন বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে।



