ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের টি‑২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ‑এ পর্যায়ে ভারত ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল আগামীকাল কলম্বোর আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে। দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা আবার মাঠে প্রকাশ পাবে কিনা, তা ভক্ত ও বিশ্লেষকদের আলোচনার বিষয়।
গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ টি‑২০-তে একই দুই দল তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল। ভারত ক্রিকেট দল সব তিনটি ম্যাচই জিতেছিল; প্রথম দুইটি জয় সহজে নিশ্চিত হলেও তৃতীয়, যা ফাইনালও ছিল, শেষ ওভারে পর্যন্ত টানাপোড়া চালু রাখে। শেষের দুই বোলের মধ্যে ভারত ক্রিকেট দল জয় নিশ্চিত করে, ফলে টুর্নামেন্টের ট্রফি তার হাতে শেষ হয়।
ফাইনাল ম্যাচের পর ট্রফি গ্রহণের অনুষ্ঠানে ভারত ক্রিকেট দল ট্রফি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহসি নাকভি, যা প্রত্যাখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় ট্রফি হস্তান্তর না করে অনুষ্ঠান শেষ করে দেন। এই ঘটনা দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ওপর তীব্র রাজনৈতিক ছাপ ফেলেছিল।
উল্লেখযোগ্য যে, ঐ তিনটি ম্যাচের সময় ভারত ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে অস্বীকার করে। উভয় দিকের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ও তিরস্কার করে, যা মাঠের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এই ধরনের আচরণ ক্রীড়া প্রেমিকদের মধ্যে বিরক্তি সৃষ্টি করে এবং ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’‑কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভক্তদের মতে, ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্য হল বন্ধুত্ব ও ন্যায়পরায়ণতা, যা ঐ ঘটনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রায় পাঁচ মাসের পরও এশিয়া কাপের ট্রফি এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিলের অফিসে ধুলো জমিয়ে আছে, কারণ উভয় দল আবারও একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচের প্রস্তুতি বহু সপ্তাহ ধরে অনিশ্চিত ছিল; শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, বহুপক্ষীয় আলোচনা ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের অনুরোধের পর ম্যাচটি অনুমোদিত হয়।
বঙ্গাদেশের ভূমিকা এই উত্তেজনার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পাকিস্তান প্রথমে ম্যাচে অংশ না নেওয়ার হুমকি জানায়, তবে বাঙ্গাদেশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মতবিরোধ হ্রাস পায় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি চালু থাকে।
যদিও এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা আবার মাঠে প্রবেশ করবে কিনা, তবে উভয় দলের কর্মকর্তারা এইবার কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ কখনো কখনো ক্রীড়া মঞ্চে ছাপ ফেলতে পারে।
কলম্বোর আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটি গ্রুপ‑এ ম্যাচের জন্য প্রস্তুত, যেখানে উভয় দল তাদের শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে উপস্থিত হবে। ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ইনিংসের শুটিং সকাল ১০টায় শুরু হবে, এবং ফলাফল সরাসরি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে।
এই ম্যাচের ফলাফল গ্রুপ‑এ টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জয়ী দলটি পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হবে, আর পরাজিত দলটি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে কঠিন হবে। উভয় দলের ভক্তরা এই ম্যাচকে শুধু ক্রীড়া নয়, জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
সারসংক্ষেপে, ভারত ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল আগামীকাল কলম্বোতে একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এবং এই ম্যাচটি ক্রীড়া ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। উভয় দলই আশা করছে যে, এইবার ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং খেলাটির ফলাফলই শেষ কথা হবে।



