ইউনাইটেড কিংডমে রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার হার হ্রাস পাচ্ছে, কারণ খাবারের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং ভোক্তাদের ব্যয়ক্ষমতা কমে গেছে। ২৭ বছর বয়সী জেমস ডিগান, ক্রুয়ের একজন অটিজম কেয়ারগিভার, তার প্রিয় রেস্টুরেন্টের গ্রিলড চিকেন বার্গারের দাম £12 থেকে বাড়িয়ে £18 করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পানীয়ের খরচ যোগ করলে মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে তিনি এখন মাসে দু’বারের বেশি বাইরে খাবার খান না।
জেমসের আর্থিক অবস্থা সাধারণ করদাতার সীমার মধ্যে, এবং তিনি অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা প্রদান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, এখন তাকে দৈনন্দিন খরচের জন্য কঠোর বাজেট মেনে চলতে হয়, যাতে মৌলিক চাহিদা পূরণ করা যায়। কয়েক বছর আগে তিনি আর্থিক সংকটে খাদ্য ব্যাংকের সাহায্য নিয়েছিলেন, যা বর্তমান জীবনের ব্যয়বহুল পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
ব্রিটেনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ব্যাপকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে। এই অর্থনৈতিক চাপের ফলে মানুষের অব্যবহৃত আয় কমে গেছে, যা বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সামাজিক কার্যক্রম, যেমন ছুটি, পাবে পানীয় বা রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া, সীমিত করে দিয়েছে। হসপিটালিটি সেক্টরের নেতারা উল্লেখ করেন যে, গ্রাহকদের ব্যয়ক্ষমতা হ্রাস এবং ব্যবসার খরচের দ্বিগুণ চাপ—কর, খাবারের দাম, মজুরি ও জ্বালানি—একসঙ্গে শিল্পকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
বহু রেস্টুরেন্টকে টিকে থাকতে দাম বাড়াতে হয়েছে, তবু কিছু প্রতিষ্ঠান আর্থিক টানাপোড়েনে টিকে থাকতে পারেনি। হসপিটালিটি মার্কেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০১৯ (কোভিডের পূর্বে) থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের রেস্টুরেন্টের সংখ্যা প্রায় ২০% কমে ৪৩,০০০ থেকে ৩৫,৫০০-এ নেমে এসেছে। এই হ্রাসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে গ্রাহকদের কম ব্যয় এবং ব্যবসার বাড়তি খরচ উভয়ই উল্লেখ করা হয়।
ইউগোভের একটি সমীক্ষা দেখায়, ব্রিটেনের বেশিরভাগ মানুষ এখন রেস্টুরেন্টে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৬৩% বলেন দাম বৃদ্ধিই প্রধান কারণ, আর ৬২% জীবনের ব্যয়বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছেন। এই দুইটি কারণ একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার প্রবণতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে।
গ্রীক রেস্টুরেন্টে ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পেট্রিট ভেলাজ ২০১০ সালে নিজের রেস্টুরেন্ট চালু করেন। তার মতো বহু উদ্যোক্তা উচ্চতর খরচের মুখে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মেনু মূল্য বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যদিও গ্রাহক সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতি শিল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে; বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যদি মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যয়বহুল শক্তি খরচের প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে রেস্টুরেন্টের সংখ্যা আরও কমতে পারে এবং কর্মসংস্থান হ্রাস পেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্যের হসপিটালিটি সেক্টর এখন দুইটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: গ্রাহকদের কম ব্যয়ক্ষমতা এবং ব্যবসার বাড়তি অপারেশনাল খরচ। এই দ্বৈত চাপ রেস্টুরেন্টের সংখ্যা হ্রাস, খাবারের দাম বাড়া এবং ভোক্তাদের বাইরে খাবার খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন এনেছে। ভবিষ্যতে, শিল্পের টিকে থাকার জন্য নতুন মডেল, যেমন ডেলিভারি সেবা সম্প্রসারণ বা খরচ কমাতে সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তন, প্রয়োজন হতে পারে। তবে বর্তমান প্রবণতা নির্দেশ করে যে, ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এবং মূল্যবৃদ্ধি রেস্টুরেন্ট শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করবে।



