19 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসন পরিবর্তনকে সর্বোত্তম বিকল্প বলে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসন পরিবর্তনকে সর্বোত্তম বিকল্প বলে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শাসন পরিবর্তনকে সর্বোত্তম বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা তার দীর্ঘমেয়াদী নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি শুক্রবারের একটি বক্তৃতায় ইরানের ধর্মীয় শাসনকে ৪৭ বছর ধরে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার ফলে বহু প্রাণ হারিয়ে যাওয়া হিসেবে সমালোচনা করেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সরকার ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দ্বিতীয় বিমানবাহী জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শাসনকে “বহু বছর ধরে কথা বলার পরেও জীবনহানি ঘটেছে” বলে উল্লেখ করেন এবং ইরানকে দ্রুত একটি নতুন নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সরাসরি কোনো ব্যক্তির নাম না তুলে ইঙ্গিত করেন যে কিছু ব্যক্তি ইরানের শাসনভার গ্রহণ করতে সক্ষম।

শাসন পরিবর্তনের নির্দিষ্ট প্রার্থী সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন যারা শাসনভার নিতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এই মন্তব্যের কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেননি।

মার্কিন নৌবাহিনী গৃহীত নতুন বিমানবাহী জাহাজ USS Gerald R Ford, যা বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী, ক্যারিবিয়ান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত স্থানান্তরিত হবে বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এ জাহাজের একটি এয়ারিয়াল ছবি শেয়ার করেন, যেখানে এটি দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ USS Abraham Lincoln-র সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে, যা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।

USS Gerald R Ford-কে জানুয়ারি মাসে পাঠানো হয়েছিল, যখন মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হুমকি জানিয়ে তার সরকারকে গৃহস্থালির দমনমূলক পদক্ষেপ বন্ধ করতে চেয়েছিল। সেই সময়ে ইরানে ব্যাপক প্রতিবাদ চলছিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

এই প্রতিবাদগুলো ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় শাসনের বিরোধী সবচেয়ে বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। বিপ্লবের পর থেকে ইরানের শাসন ব্যবস্থা সর্বোচ্চ নেতা দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময়েও ইরানের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বুধবারের ইজরায়েলি সরকার প্রধান বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের পর এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ফোর্ট ব্র্যাগে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আহ্বান জানান যে তারা প্রথমবারের মতোই একটি চুক্তি প্রদান করুক, যা তারা পূর্বে দিতে পারত। তিনি ইরানের পারমাণবিক চুক্তি না হলে আক্রমণমূলক পদক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মার্কিন সরকার ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ বন্ধ করতে এবং পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইজরায়েলি সরকার ইরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম বন্ধ করতে এবং হামাস ও হেজবোল্লার মতো প্রক্সি গোষ্ঠীর সমর্থন কমাতে আহ্বান জানাচ্ছে।

ইরানের বর্তমান শাসন এই চাহিদাগুলোর প্রতি এখনও কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি, ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন পরিবর্তনের সমর্থন এবং সামরিক উপস্থিতি উভয়ই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে যদি ইরানে নতুন নেতৃত্বের উদ্ভব হয়, তবে তা পারমাণবিক চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের শাসন পরিবর্তন বাস্তবায়িত হবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments