নায়রোবি শহরে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপনের সময় রেড রঙের পোশাক ও গোলাপের গুচ্ছ দেখা যায়। ঐতিহ্যগতভাবে শহরের রাস্তায় লাল রঙের ছোঁয়া থাকে, আর স্থানীয় কৃষকদের তাজা ফুলের বিক্রয় বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেড পেটালের বদলে নগদ নোট দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
এই নগদ গুচ্ছগুলোতে শিনিল, নীল বা বেগুনি রঙের ব্যাংকনোট ভাঁজ, রোল বা ক্লিপ করে সাজানো হয়, যা দেখলে রোমান্সের সঙ্গে আর্থিক উপহারও মিশে যায়। প্রথমে এটি কিছু তরুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রচারে পুরো আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
কেনিয়া ছাড়াও উগান্ডা, রুয়ান্ডা, বতসোয়ানা এবং নামিবিয়া সহ বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একই ধরনের নগদ গুচ্ছের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নোটের ক্ষতি ও মুদ্রা প্রবাহে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা উল্লেখ করে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে।
কেনিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক (CBK) জানিয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে নোটগুলোকে আঠা, টেপ, স্ট্যাপল বা পিন দিয়ে স্থায়ী করা হয়, যা স্বয়ংক্রিয় টেলর মেশিন (ATM) ও নগদ সাজানোর যন্ত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে। ক্ষতিগ্রস্ত নোটগুলো ATM-এ গ্রহণযোগ্য না হয়ে সরিয়ে ফেলতে হয়, ফলে ট্যাক্সদাতার অতিরিক্ত ব্যয় হয়।
CBK-এর নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নগদ উপহার দেওয়া নিজে অপরাধ নয়, তবে নোটের শারীরিক ক্ষতি করা বেআইনি এবং এর জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইনগত পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল মুদ্রার অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
সেলিব্রিটি ও অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিওতে নগদ গুচ্ছ উপস্থাপন করা এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। তারা প্রায়ই গিফট শপের শেলফে সাজানো রঙিন নোটের গুচ্ছ দেখিয়ে অনুসারীদের আকৃষ্ট করে, ফলে এই ধরণের উপহার ভ্যালেন্টাইন ডের পাশাপাশি জন্মদিন ও অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানে ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
নগদ গুচ্ছের নকশা গ্রাহকের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। নোটের পরিমাণ এক হাজার শিলিং (প্রায় ৮ ডলার) থেকে শুরু করে এক মিলিয়ন শিলিং (প্রায় ৮০০০ ডলার) পর্যন্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় নায়রোবির গিফট অ্যান্ড ফ্লাওয়ারস শপের ফ্লোরিস্ট আঞ্জেলা মুথনি জানান, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তারা বিভিন্ন রঙ ও আকারের নোট ব্যবহার করে সৃজনশীল গুচ্ছ তৈরি করে।
অঞ্চলীয় আর্থিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নগদ গুচ্ছের জনপ্রিয়তা মুদ্রা নীতি ও নগদ ব্যবস্থাপনার উপর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন নোটের পুনরায় চক্রায়ন ও পুনরায় মুদ্রণ প্রক্রিয়ার খরচ বাড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। এছাড়া, সীমান্ত পারাপার লেনদেনে নোটের ক্ষতি হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পরিষেবার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
কেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে নোটের ক্ষতি রোধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে এবং ব্যাংকগুলোকে ATM ও ক্যাশ মেশিনে নোটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রযুক্তিগত আপডেট প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, অন্যান্য আফ্রিকান দেশের ব্যাংকগুলোও সমন্বিতভাবে তথ্য শেয়ার করে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে কাজ করছে।
সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে নগদ গুচ্ছের প্রচার অব্যাহত থাকলেও, আর্থিক কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও আইনগত শাস্তি এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণের পথে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নগদ উপহারকে রোমান্সের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হলেও, মুদ্রার অখণ্ডতা রক্ষা করা দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
এই পরিস্থিতি কেনিয়ার সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও আধুনিক অর্থনৈতিক নীতির সংযোগস্থলকে তুলে ধরে, যেখানে রোমান্সের প্রকাশের নতুন রূপ আর আর্থিক স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ একসাথে বিদ্যমান। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কীভাবে এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং নাগরিকদের সৃজনশীলতা কীভাবে আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে, তা পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয়।



