প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি থেকে আইসল্যান্ডের ব্যাংকিং সমস্যার উপর একটি ব্রিফিং চেয়ে তা তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পরিচিতি জোনাথন রোয়াল্ডকে পাঠানোর অভিযোগের মুখে। এই অভিযোগের ভিত্তি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত ইমেইল, যেখানে অ্যান্ড্রু টেসরির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছেন বলে উল্লেখ আছে।
ইমেইলগুলোতে দেখা যায় অ্যান্ড্রু তার উপদেষ্টার মাধ্যমে ট্রেজারির কাছ থেকে “ইউকে ও আইসল্যান্ডের ডিপোজিট গ্যারান্টি স্কিমের সর্বশেষ অবস্থার আপডেট নোট” চেয়েছিলেন। তিনি এই নথি জোনাথন রোয়াল্ডকে শেয়ার করেন, যিনি ব্যবসায়িকভাবে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যুক্ত এবং তার পিতা ডেভিড রোয়াল্ড আইসল্যান্ডের দেউলিয়া ব্যাংকগুলোর একটির অংশ অধিগ্রহণে জড়িত ছিলেন।
এই প্রকাশের ফলে প্রাক্তন ট্রেড এনভয়েডের ভূমিকা পালনকালে সরকারি তথ্যকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগে অ্যান্ড্রুর ওপর চাপ বাড়ছে। জোনাথন রোয়াল্ড নিজে এই ইমেইলে তার উল্লেখের বিষয়ে “কোনো ধারণা নেই” বলে জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ইমেইলগুলো পুরনো আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
ক্যাবিনেট অফিস এই বিষয়ের ওপর মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে ইমেইলের সত্যতা নিয়ে কোনো বিরোধ প্রকাশ করেনি। ক্যাবিনেট অফিসের মুখপাত্র থেমস ভ্যালি পুলিশকে বর্তমান অবস্থায় উল্লেখ করেছেন, যেখানে তারা সরকারি দায়িত্ব লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করছে।
এই ঘটনা পূর্বে প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের ইমেইলগুলোর ধারাবাহিক, যেখানে অ্যান্ড্রুকে জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে সরকারি নথি পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই নথিগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য সফরের রিপোর্ট এবং আফগানিস্তানে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্রিফিং অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো অ্যান্ড্রু “গোপনীয়” বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ট্রেজারির কাছ থেকে চাওয়া আপডেট নোটটি আইসল্যান্ডের ব্যাংকিং সেক্টরের সংকটের সময়ের তথ্য ছিল। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর আইসল্যান্ডের তিনটি বড় ব্যাংক গুরুতর সমস্যায় পড়ে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। ফলে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিপোজিট গ্যারান্টি স্কিমের অবদান নিয়ে ২০১০ সালে বিতর্ক দেখা দেয়।
এই বিতর্কের সময় অ্যান্ড্রু, তখন ট্রেড এনভয়েডের পদে ছিলেন, আইসল্যান্ডের ব্যাংকিং সমস্যার উপর সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি জানাতে ট্রেজারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক সরকারী তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি পুলিশ তদন্তে অ্যান্ড্রুকে দায়ী করে, তবে তার পূর্বের দায়িত্বের দায়িত্বশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রাজকীয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে। এছাড়া, এই বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের বিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এই অভিযোগের ফলাফল ভবিষ্যতে রাজপরিবারের সরকারি দায়িত্বে অংশগ্রহণের সীমা নির্ধারণে নতুন নীতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তদুপরি, ক্যাবিনেট অফিস ও পুলিশ সংস্থার পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে, যা অ্যান্ড্রুর রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসরকে ট্রেজারির গোপনীয় নথি ব্যবসায়িক পরিচিতির সঙ্গে ভাগ করার অভিযোগে তদন্তের মুখে আনা হয়েছে, এবং এই বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের জনসাধারণের দায়িত্বের সীমা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



