সনি পিকচার্স নতুন “চার্লি’স এঞ্জেলস” চলচ্চিত্রের প্রকল্প ঘোষণা করেছে এবং স্ক্রিপ্ট লেখার দায়িত্ব পিট চিয়ারেল্লিকে অর্পণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পুরুষ‑প্রধান অ্যাকশন ধারাকে নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ পেয়েছে।
মৌলিক টেলিভিশন সিরিজটি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত এ.বি.সি-তে প্রচারিত হয় এবং ফারাহ ফসেট, কেট জ্যাকসন ও জ্যাকলিন স্মিথের অভিনয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সিরিজটি টাউনসেন্ড এজেন্সি নামে কাল্পনিক গোয়েন্দা সংস্থার নারী গোয়েন্দাদের কাজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল, যেখানে অদৃশ্য মালিক চার্লি টাউনসেন্ডের নির্দেশে বসলি নামের মধ্যম স্তরের কর্মী সংযোগকারী হিসেবে কাজ করতেন।
সনি ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বড় পর্দায় নিয়ে আসে। ড্রু ব্যারিমোর, ক্যামেরন ডায়াজ এবং লুসি লিউ প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন, আর মেকি‑এর পরিচালনায় চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী প্রায় $২৬৪.১ মিলিয়ন আয় করে, যা আজকের মুদ্রায় প্রায় $৪৯৩ মিলিয়ন সমান। এই বাণিজ্যিক সাফল্যের পর ২০০৩ সালে “চার্লি’স এঞ্জেলস: ফুল থ্রোটল” নামে সিক্যুয়েল মুক্তি পায়।
২০১১ সালে টেলিভিশন সংস্করণ পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা করা হয়, তবে মাত্র সাতটি পর্বের পরই শোটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৯ সালে এলিজাবেথ ব্যাংকসের পরিচালনায় এবং ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের প্রধান ভূমিকায় একটি নতুন চলচ্চিত্রের প্রচেষ্টা করা হয়, তবে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
নতুন চলচ্চিত্রের প্রযোজক হিসেবে ড্রু ব্যারিমোরের ফ্লাওয়ার ফিল্মসের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্র পাওয়া গেছে, যদিও Sony এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফ্লাওয়ার ফিল্মস পূর্বে ২০০০ ও ২০০৩ সালের চলচ্চিত্রে মূল প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছিল।
পিট চিয়ারেল্লি, যিনি রায়ান রেনল্ডস‑সান্দ্রা বুলকের রোমান্টিক কমেডি “দ্য প্রপোজাল” এবং “ক্রেজি রিচ এশিয়ানস” অভিযোজনের স্ক্রিপ্টের জন্য পরিচিত, এখন এই আইকনিক ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন গল্প রচনায় যুক্ত হচ্ছেন। তার পূর্বের কাজগুলোতে হালকা হাস্যরস ও বাণিজ্যিক আকর্ষণকে সফলভাবে মিশ্রিত করার দক্ষতা দেখা গিয়েছে।
Sony এই প্রকল্প সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও, নতুন স্ক্রিপ্টের প্রস্তুতি এবং কাস্টিং প্রক্রিয়া চলমান বলে জানা যায়। স্টুডিওটি চলচ্চিত্রটি আধুনিক দর্শকের জন্য উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি মূল সিরিজের নারীবাদী থিমকে বজায় রাখার লক্ষ্য প্রকাশ করেছে।
প্রত্যাশিত নতুন চলচ্চিত্রটি পুরুষ‑প্রধান অ্যাকশন জগতের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নকে তুলে ধরবে এবং টাউনসেন্ড এজেন্সির গোপনীয় মিশনকে পুনরায় জীবন্ত করবে। এতে বেসিক স্টোরিলাইন, উচ্চ-গতির অ্যাকশন দৃশ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা কাজের চিত্রায়ণ থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রের মুক্তির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ফ্যানরা নতুন সংস্করণে পুরোনো চরিত্রের আধুনিক রূপ এবং নতুন নায়িকাদের প্রত্যাশা করছেন। সনি পিকচার্সের এই উদ্যোগটি পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



