18 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইজরায়েলি সরকার হেব্রনে নতুন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা, শহরের মেয়র উদ্বেগ প্রকাশ

ইজরায়েলি সরকার হেব্রনে নতুন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা, শহরের মেয়র উদ্বেগ প্রকাশ

রবিবার ইজরায়েলি সরকারের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট পশ্চিম তীরের বিদ্যমান ক্ষমতার বিভাজনকে পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তিন দশক আগে অস্কার চুক্তির অধীনে স্থাপিত কাঠামোকে পরিবর্তন করে, ইজরায়েলি সরকার এখন শহুরে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বাদ রাখবে বলে ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ইজরায়েলি সামরিক দখলকে অতিক্রম করে পৌরসেবা ও ঐতিহাসিক সাইটের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করা।

হেব্রন পশ্চিম তীরের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ শহর, যেখানে ইজরায়েলি সৈন্যরা শত শত ইজরায়েলি বসতি রক্ষার জন্য উপস্থিত। শহরের পুরনো অংশে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইজরায়েলি বসতিদের সহাবস্থান করা হয়, আর নতুন গেট ও চেকপয়েন্টের মাধ্যমে চলাচল সীমাবদ্ধ। এই বিভাজন শহরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে বাজার ও রাস্তার প্রবেশাধিকার সীমিত করে।

নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের নতুন বিধান অনুযায়ী, ইজরায়েলি সরকার এখন ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পৌরসেবা প্রদান করার অধিকার পাবে। এতে পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল। এছাড়া, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত সাইটের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে ইজরায়েলি সরকারকে বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

হেব্রনের পবিত্র স্থান কেভ অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কসের পরিকল্পনা অনুমোদনের দায়িত্বও ইজরায়েলি সরকার গ্রহণ করবে। এই স্থানটি ইব্রাহিমি মসজিদে অবস্থিত এবং ইহুদি ধর্মে বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ভবন বা কাঠামোকে প্রাচীন বলে ঘোষণা করে তা ধ্বংস বা পরিবর্তন করতে পারবে, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না।

হেব্রনের কার্যনির্বাহী মেয়র আসমা আল-শারাবাতি এই পরিবর্তনকে “আলোচনার শেষ গন্তব্য” বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নতুন আইন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করবে না, এমনকি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেও নয়। তিনি ইজরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসনের ওপর আঘাতকারী হিসেবে দেখছেন।

আল-শারাবাতি জানান, তিনি ইজরায়েলি সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি; সব তথ্য তিনি ইজরায়েলি সংবাদ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং নগর উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করবে।

হেব্রনের ব্যস্ত সবজি বাজারের কয়েক মিটার দূরে, ইজরায়েলি চেকপয়েন্টের ধূসর স্টিল গেটের পিছনে শূন্যতা ও উত্তেজনা দেখা যায়। সেখানে ফিলিস্তিনি দোকানগুলো বন্ধ, রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা ইজরায়েলি বসতিদের রক্ষা করার জন্য করা হয়েছে। এই পরিবেশ স্থানীয় ব্যবসা ও বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে।

হেব্রনের H2 নামে পরিচিত বিভক্ত এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্মী ইসা আম্রো বসবাস করেন। তিনি এই অঞ্চলের অস্থিরতা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার উপস্থিতি শহরের জটিল সামাজিক গঠনকে তুলে ধরে, যেখানে একসাথে বসবাসের প্রচেষ্টা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ একসঙ্গে চলতে থাকে।

বিশ্লেষকরা ইজরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি-ইজরায়েলি আলোচনার জন্য “শেষ গন্তব্য” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। নতুন আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ায়, ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার পুনরায় সূচনা কঠিন হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এই পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলি অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথকে নির্ধারণ করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments