ফ্রান্সের লিগ ১-এ রেনেস, কোচ হাবিব বেয়ের পদত্যাগের মাত্র চার দিন পর প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনকে ৩-১ স্কোরে পরাজিত করে। এই জয় রেনেসকে লিগের শীর্ষে উঠে আসতে সাহায্য করে এবং পিএসজির সাত ম্যাচের জয়ধারা শেষ করে।
পিএসজি ম্যাচের সূচনায় আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়; উসমান দেমবেল ও ডেসায়ার দৌয়ে প্রাথমিক সুযোগ তৈরি করে, তবে গোলের কোনো সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যায়।
সোমবার হাবিব বেয়ের পদত্যাগের পর সহকারী সেবাস্টিয়ান তামবোরে হেড কোচের দায়িত্ব নেন। পরিবর্তনের পর রেনেসের খেলোয়াড়রা আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখায় এবং ম্যাচে দ্রুত রূপান্তর ঘটায়।
৩৪তম মিনিটে জর্ডানিয়ার ফরোয়ার্ড মৌসা আল-তামারির শক্তিশালী শট নিচের কোণে গিয়ে রেনেসের প্রথম গোল হয়। এই গোল রেনেসকে মানসিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে কৌণিক থেকে এস্টেবান লেপল হেডার দিয়ে রেনেসের দ্বিতীয় গোল বাড়ায়। দু’টি গোলের পর রেনেসের আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকতা বাড়ে।
দুই মিনিট পরই পিএসজির উসমান দেমবেল ডিফ্লেক্টেড ক্রসকে মাথা দিয়ে গিয়ে সমতা বজায় রাখে। দেমবেল এই গোলের মাধ্যমে দলের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে চায়।
পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ডেসায়ার দৌয়ে ও খভিচা কভারাটস্কেলিয়াকে বদলে ব্র্যাডলি বারকোলা ও লি কাং-ইনকে মাঠে নামিয়ে দেন। এই পরিবর্তনটি সম্ভবত মনাকোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে করা হয়।
ম্যাচের শেষের দিকে রেনেসের প্রতিস্থাপিত স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো ৯ মিনিট বাকি থাকাকালীন তৃতীয় এবং চূড়ান্ত গোল করেন, যা রেনেসকে জয়ের নিশ্চিত করে এবং টেবিলে পঞ্চম স্থানে নিয়ে যায়।
দেমবেল গোলের পর দলের সঙ্গে কথা বলে, “এ ধরনের ম্যাচে জিততে হলে পুরো দলকে একসাথে কাজ করতে হবে, ব্যক্তিগতভাবে নয়। আমাদের আরও ইচ্ছাশক্তি দরকার এবং প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের জন্য জয় অর্জন করা অপরিহার্য।” তার মন্তব্য থেকে দলীয় সংহতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়।
গোলকিপার নির্বাচনেও এনরিকের সিদ্ধান্ত লক্ষ্যণীয়; তিনি লুকাস শেভালিয়ের পরিবর্তে রাশিয়ান গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভকে বাছাই করেন, যিনি আল-তামারির প্রথম গোলের সময় দৃষ্টিগোচর ছিলেন না।
রেনেসের ডিফেন্সে কিছু ত্রুটি দেখা যায়; সেন্টার ব্যাক উইলিয়ান পাচো আল-তামারির গোলের সময় কোনো চ্যালেঞ্জ না দিয়ে থাকে, আর তার সঙ্গী ইলিয়া জাবার্নি দু’টি গোলের সময় ধীরগতিতে কাজ করে। এই দুর্বলতা রেনেসের জয়কে হুমকির মুখে ফেলতে পারত, তবে শেষ পর্যন্ত তা না হয়।
রেনেসের এই জয় পিএসজির শিরোপা শিরোপা রক্ষার পথে বড় ধাক্কা দেয়। লিগের শীর্ষে থাকা লেন্স, যদি পারিস এফসি-কে পরাজিত করে, তবে শিরোপা শিরোনাম পুনরায় দখল করতে পারে। পিএসজি পরবর্তী ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মনাকোতে প্রথম লেগের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করবে।



