মিনেসোটা রাজ্যের সেন্ট পল শহরে ১৮ জানুয়ারি একটি গির্জায় সংঘটিত প্রতিবাদে যুক্ত হওয়ার পর প্রাক্তন সিএনএন উপস্থাপক ডন লেমন অপরাধমূলক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। লেমন এবং আটজন সহ-অভিযুক্তকে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লেমনকে ‘অধিকার লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যাহত করা’ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ অনুসারে, তিনি গির্জার প্রবেশের সময় প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে ছিলেন এবং একটি লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্প্রচার করেন।
সেই দিন গির্জার সেবার মাঝখানে প্রতিবাদকারীরা ‘আইসি আউট’ ও ‘রেনি গুডের ন্যায়বিচার’ চিৎকার করে প্রতিবাদ শুরু করে। রেনি গুডের মা, যিনি সম্প্রতি একটি আইসি অফিসার দ্বারা গুলি হোঁচট খেয়ে মারা গেছেন, তার ন্যায়বিচারের দাবি করা হয়েছিল।
লেমনকে গ্রেফতার করার পর সেন্ট পলের আদালতে তার উপস্থিতি হয়। আদালতে প্রবেশের সময় তিনি কোনো কথা বলেননি, তবে সমর্থকরা ‘প্যাম বন্ডি যেতে হবে’ স্লোগান দিয়ে চিৎকার করে তার পক্ষে সমর্থন জানায়।
লেমন এবং তার চারজন সহ-অভিযুক্তই একই সময়ে ‘অভিযুক্ত নয়’ বলে দায়ের করেন। তারা সকলেই দাবি করেন যে তারা কেবল স্বাধীন সাংবাদিকের দায়িত্ব পালন করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
লেমন তার ক্যারিয়ার জুড়ে সংবাদ কভারেজে নিবেদিত ছিলেন এবং গ্রেফতার হওয়ার পরও এই দায়িত্ব থেকে সরে না যাওয়ার কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে সংবাদ কভার করেছি, এখন থামব না।”
লেমনকে প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী এবি লোয়েড আদালতে উল্লেখ করেন যে, লেমনকে লস এঞ্জেলেসে গ্রেফতার করার সময় তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল, যা তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবাদে গির্জার সেবার মাঝখানে ‘আইসি আউট’ ও ‘রেনি গুডের ন্যায়বিচার’ চিৎকারের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন ঘটার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। লেমন এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গির্জা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত শুনানির তারিখ প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরবর্তী আদালত তারিখ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
মিনেসোটা রাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ধর্মীয় সংস্থার প্রতিনিধিরা এই ঘটনার ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ধর্মীয় স্থানে হিংসাত্মক প্রতিবাদ ও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর মিডিয়া ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নজর রাখছে, যাতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রথম সংশোধনী অধিকার উভয়ই সুরক্ষিত থাকে। লেমন এবং সহ-অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত হলে, তাদের ওপর কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলার পরবর্তী পর্যায়ে, আদালত কীভাবে প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করবে এবং লেমনকে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা দেশের মিডিয়া ও জনমতকে প্রভাবিত করবে। এই বিষয়টি এখনও চলমান এবং পরবর্তী শুনানির ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



