যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের সিভিল রাইটস বিভাগ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার ডেটা প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। মামলা মঙ্গলবার ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলায় দাখিল করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে যে হার্ভার্ড প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে অনিচ্ছুক, যা সিভিল রাইটস আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক। এই মামলা ডিপার্টমেন্টের চলমান সিভিল রাইটস তদন্তের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
ডিপার্টমেন্টের সিভিল রাইটস প্রধান হরমিট ধিলন উল্লেখ করেছেন যে, তথ্য সরবরাহ করা কোনো স্বচ্ছতা প্রক্রিয়ার মৌলিক শর্ত। তিনি শুক্রবার প্রকাশিত প্রেস রিলিজে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং সরকারী অনুরোধের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়ার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছেন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিব্রত না হয়ে, বিবিসি-কে জানিয়েছে যে তারা সরকারী অনুসন্ধানে সৎভাবে সাড়া দিচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। বিশ্ববিদ্যালয় অতীতে অনুরূপ তথ্য চাহিদার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে বলে উল্লেখ করেছে, তবে বর্তমান অনুরোধের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় কিছু দিক থেকে বিলম্ব ঘটেছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করেছে যে, তারা কোনো অবৈধ সরকারী হস্তক্ষেপের ফলে তাদের স্বতন্ত্রতা বা সংবিধানিক অধিকার ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়। এই বক্তব্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত নীতি ও ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পূর্বে জানিয়েছে যে, এই মামলার মাধ্যমে হার্ভার্ড থেকে এক বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে। এই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের “ওয়েক” নীতি নিয়ে চলমান বিরোধের অংশ হিসেবে উত্থাপিত এবং ট্রাম্পের সমর্থকরা এই দাবিকে শিক্ষার ন্যায্যতা রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তথ্য গোপন করে হার্ভার্ড সিভিল রাইটস অ্যাক্টের একটি ধারা লঙ্ঘন করেছে, যা বর্ণভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। বিশেষ করে, সিভিল রাইটস অ্যাক্টের ধারা ২০০১ (Title VI) অনুযায়ী ফেডারেল তহবিল গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে বর্ণভিত্তিক বৈষম্য না করার শর্ত মেনে চলতে হয়।
এই আইনি পদক্ষেপের পটভূমিতে ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে, যেখানে রেস-সচেতন ভর্তি প্রোগ্রামকে সংবিধানবিরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই রায়ে “Students for Fair Admissions v. Harvard” মামলায় কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতি ভিত্তিক অগ্রাধিকার প্রদান সংবিধানের নীতি লঙ্ঘন করে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে যে, হার্ভার্ড ধারাবাহিকভাবে তথ্য সরবরাহের গতি ধীর করে এবং প্রয়োজনীয় ডেটা প্রদান থেকে বিরত রয়েছে। ডিপার্টমেন্টের দাবি অনুযায়ী, প্রথম অনুরোধের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বহুবার সময়সীমা বাড়িয়ে নিয়েছে, যা তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে, আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ভর্তি তথ্য, জাতি ও বর্ণ সংক্রান্ত চিঠিপত্র, এবং বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ প্রদান না করার অভিযোগ রয়েছে। ডিপার্টমেন্টের দাবি যে, এই ডেটা না পাওয়া গেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বর্ণভিত্তিক পক্ষপাতের সম্ভাবনা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অনুপালন না করার ফলে, সরকার দাবি করে যে হার্ভার্ড ফেডারেল আর্থিক সহায়তার শর্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা লঙ্ঘন করেছে। যদি এই লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেডারেল তহবিলের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে, যদিও বর্তমানে কোনো তহবিল কাটা নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা হার্ভার্ডের কোনো বৈষম্যমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ করছে না এবং কোনো আর্থিক জরিমানা বা ফেডারেল তহবিল কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বর্তমান মামলাটি মূলত তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার জন্য দায়ের করা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ বা তহবিল রোধের উদ্দেশ্য নয়।
এই মামলা শিক্ষা ক্ষেত্রের “ওয়েক” নীতি ও বর্ণভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্রতর করেছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের নীতি ও স্বতন্ত্রতা রক্ষার দাবি করে। একই সঙ্গে, ফেডারেল তহবিলের শর্তাবলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে সীমানা কোথায় নির্ধারিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
পাঠকরা যদি এই ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপডেট থাকতে চান, তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ঘোষণাগুলি নিয়মিত অনুসরণ করা উপকারী। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের ওয়েবসাইট এবং হার্ভার্ডের প্রেস রিলিজে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত হয়।
আপনার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্রতা এবং ফেডারেল তহবিলের শর্তের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় বজায় রাখা উচিত?



