১৯৭০-এর দশকে আমেরিকান চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের সূচনা হয়, যখন এক নতুন প্রজন্মের পরিচালক ও প্রযোজকরা পুরনো স্টুডিও ব্যবস্থা ভেঙে নতুন নিয়ম গড়ে তোলেন। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ, জর্জ লুকাস, ফ্রান্সিস কপোলা, উইলিয়াম ফ্রাইডকিন, মার্টিন স্কোরসেসি, মাইক নিকলস, ব্রায়ান ডি প্যালমা এবং টেরেন্স ম্যালিক। তারা দ্রুতই শিল্পের কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন এবং পুরনো সিস্টেমকে ছাড়িয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
এই তরুণ দল প্রথমবারের মতো “ব্লকবাস্টার” ধারণা বাস্তবায়ন করে, বড় বাজেট, ব্যাপক মার্কেটিং এবং একাধিক থিয়েটারে একসাথে মুক্তি দিয়ে সিনেমা দেখার পদ্ধতি বদলে দেয়। একই সঙ্গে তারা পূর্বের মূলধারার ছবির তুলনায় বেশি হিংসা ও যৌনতা যুক্ত করে, যা দর্শকের মনোযোগ তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। তবে সৃজনশীল স্বাধীনতা অতিরিক্ত আত্মমুগ্ধতায় রূপ নেয়, ফলে কিছু প্রকল্প আর্থিকভাবে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে মাইকেল সিমিনোর “Heaven’s Gate” এবং ফ্রান্সিস কপোলার “Apocalypse Now” বড় ক্ষতি করে, যা স্টুডিও নির্বাহীদেরকে আবার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করে।
সেই সময়ের প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, এই পরিচালকরা “সেক্স‑ড্রাগস জেনারেশন” হিসেবে পরিচিত, যেন তারা মানসিক হাসপাতালের মতো শিল্পকে দখল করে নিয়েছে। তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি অতিরিক্ত সরলীকরণ বলে মনে হয়। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে চলচ্চিত্র বিদ্যালয়ে পড়া একজন ছাত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তিনি স্পিলবার্গ, লুকাস, কপোলা ইত্যাদির কাজের প্রতি মুগ্ধ ছিলেন; “দ্য গডফাদার”, “দ্য এক্সরসিস্ট”, “স্টার ওয়ার্স”, “জ’স”, “ট্যাক্সি ড্রাইভার”, “দ্য গ্র্যাজুয়েট”, “বেডল্যান্ডস” ইত্যাদি ক্লাসিকগুলো তাদের সৃষ্টিশীলতার নিদর্শন ছিল।
তবু এই রোমান্টিক বর্ণনা লেখকের কাছে যথেষ্ট সন্তোষজনক না হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এটি স্টুডিও নির্বাহীদের দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে ওঠা একটি সংস্কৃতি ইতিহাসের মতো শোনায়। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৬৭ সালে তরুণ স্ক্রিনরাইটার ফ্রান্সিস কপোলা এবং সদ্য স্নাতক জর্জ লুকাসের প্রথম সাক্ষাৎই এই পরিবর্তনের সূচনা করে। উভয়ই কর্পোরেট পুঁজিবাদের প্রতি অবিশ্বাস গড়ে তোলেন এবং শিল্পের স্বাধীনতা খুঁজতে শুরু করেন।
সেই সময়ের যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম যুদ্ধের গর্জনে, হোয়াইট হাউসের দুর্নীতিতে এবং সামাজিক অস্থিরতায় ভুগছিল। এই পরিবেশ তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে হতাশা ও বিক্ষোভের সঞ্চার ঘটায়, যা তাদেরকে প্রচলিত স্টুডিও কাঠামোর বাইরে কাজ করার প্রেরণা দেয়। প্রযুক্তিগত অগ্রগতিও সহায়তা করে; হালকা ক্যামেরা, পোর্টেবল সাউন্ড সিস্টেম এবং নতুন ফিল্ম স্টক ব্যবহার করে স্বতন্ত্রভাবে ছবি তোলা সম্ভব হয়।
ফলস্বরূপ, ১৯৭০‑এর দশকে হলিউডে একটি স্বতন্ত্র সৃজনশীল আন্দোলন জন্ম নেয়, যেখানে স্বাধীনতা, ঝুঁকি এবং সামাজিক মন্তব্যের মিশ্রণ দেখা যায়। তবে শেষের দিকে আর্থিক ব্যর্থতা এবং স্টুডিওয়ের পুনরায় হস্তক্ষেপের ফলে এই স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। আজকের নেটফ্লিক্সের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো আবার নতুন নির্মাতাদের জন্য স্বাধীনতা ও বিতরণ চ্যানেল সরবরাহ করছে, যা ১৯৭০‑এর দশকের পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা যায়।
তবে বর্তমানের অর্থায়ন মডেল, বৈশ্বিক দর্শকগণ এবং ডেটা‑চালিত কন্টেন্ট কিউরেশন পূর্বের সময়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন, ফলে একই ধরণের শিল্পিক উত্থান-পতন নতুন রূপে প্রকাশ পায়। এই পরিবর্তনগুলোকে শুধুমাত্র কিংবদন্তি গল্পের মাধ্যমে নয়, বরং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ করে বুঝতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ১৯৭০‑এর দশকের হলিউড বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণ নির্মাতাদের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক অশান্তি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, যা একদিকে শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায় এবং অন্যদিকে অতিরিক্ত আত্মমুগ্ধতার ফলে নিয়ন্ত্রণের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটায়। আজকের স্ট্রিমিং যুগে একই ধরনের পরিবর্তন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, তবে তার রূপ ও প্রভাব ভিন্ন। এই ইতিহাসকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করা ভবিষ্যতের চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।



