লন্ডন হাই কোর্টের তিনজন সিনিয়র বিচারক গতকাল সিদ্ধান্ত নেন যে, হোম অফিসের প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে অবৈধ। তবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আপিলের সুযোগ এবং অতিরিক্ত আইনি যুক্তি বিবেচনার জন্য গ্রুপটি এখনও নিষিদ্ধ থাকবে।
হোম অফিসের এই নিষেধাজ্ঞা, যা জুলাই মাসে কার্যকর হয়, তার পর থেকে হাজারো ব্যক্তি গ্রুপের সমর্থনে অংশ নেওয়ার জন্য গ্রেফতার হয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন অপরাধমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে তার লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করলেও, তা সন্ত্রাসী সংগঠনের উচ্চ মানদণ্ডে পৌঁছায়নি।
হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং তিনি এই সিদ্ধান্তে “অত্যন্ত হতাশ”। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রুপের নিষেধাজ্ঞা কঠোর প্রমাণের ভিত্তিতে এবং পার্লামেন্টের সমর্থন পেয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি রায়কে “ব্রিটেনের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনের মুক্তির সংগ্রামের জন্য একটি বিশাল জয়” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি হোম অফিসের পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক ব্রিটিশ ইতিহাসের অন্যতম কঠোর মতস্বাধীনতা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। আপিলের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি জানান যে, জুলাই থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে গ্রেফতার হওয়া হাজারো মানুষকে আরেকটি অবিচারমূলক শাস্তি দেওয়া হবে এবং এটি “অত্যধিক দমনমূলক” হবে।
আদালতের রায়ের একটি মূল বিষয় ছিল যে, নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনীয় বিষয়ক প্রতিবাদে অংশ নিতে চাওয়া নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা। বিচারকরা উল্লেখ করেন যে, যদিও গ্রুপের কিছু কার্যকলাপ অপরাধমূলক, তবু তা সন্ত্রাসী সংগঠনের উচ্চ সীমা অতিক্রম করে না, ফলে নিষেধাজ্ঞা অবৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে।
রায়ের পর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায় যে, আদালত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে প্রকাশ করা মতামতের জন্য গ্রেফতার করা হবে না। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন যে, নিষেধাজ্ঞা এখনও কার্যকর এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সরকারের আপিলের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই দেশের নিরাপত্তা নীতি ও মতস্বাধীনতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে পরীক্ষা করবে। যদি আপিল সফল হয়, তবে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন এবং অনুরূপ গ্রুপের উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে, যা সমর্থকদের জন্য অতিরিক্ত আইনি ঝুঁকি তৈরি করবে। অন্যদিকে, আপিল ব্যর্থ হলে গ্রুপের নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে পারে এবং পূর্বে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি বা দণ্ড হ্রাসের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।
এই রায়ের ফলে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা নীতি, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং নাগরিকদের প্রতিবাদ অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠন উভয়ই রায়ের পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রাখছে, যেখানে আদালত এবং সংসদ উভয়ই এই বিষয়ের আইনি ও নৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করবে।
ব্রিটিশ সরকার এখন আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং হোম অফিসের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সমর্থকরা রায়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত প্রতিবাদ ও সমর্থন কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে সূক্ষ্ম সীমা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং পরবর্তী আদালতিক প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



