যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির দুইজন ডেমোক্র্যাট সদস্য পিটার ম্যান্ডেলসনকে চিঠি লিখে এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তে তার সাক্ষ্য চেয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ম্যান্ডেলসন, যিনি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিটিশ উচ্চায়ুক্ত ছিলেন, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। কমিটি এই তথ্যগুলোকে এপস্টেইনের যৌন পাচার নেটওয়ার্কের পূর্ণ চিত্র উদ্ঘাটনের জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচনা করেছে।
পিটার ম্যান্ডেলসন, ১৯৯৯ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের উচ্চায়ুক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে হাউস অব লর্ডসের সদস্য ছিলেন। এপস্টেইনের সঙ্গে তার পরিচয় ২০০0-এর দশকের শুরুর দিকে শুরু হয় বলে জানা যায়, এবং ২০১৯ সালে এপস্টেইনের গ্রেফতার ও মৃত্যুর পর ম্যান্ডেলসন তার সঙ্গে সম্পর্কের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, এপস্টেইনের শিকার নারী ও মেয়েদের প্রতি তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন।
ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া এবং সুহাস সুভরমণ্যাম চিঠিতে ম্যান্ডেলসনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংযোগের মাধ্যমে এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব। তারা উল্লেখ করেছেন যে, ম্যান্ডেলসন এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চায়ুক্ত নয় এবং হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ করেছেন, তবু তার কাছে থাকা তথ্য তদন্তের জন্য অপরিহার্য।
চিঠিতে ম্যান্ডেলসনকে একটি ট্রান্সক্রাইবড সাক্ষাৎকারের জন্য উপলব্ধ হতে বলা হয়েছে, যেখানে তিনি এপস্টেইনের অপরাধ এবং তার সহ-অপরাধীদের সম্পর্কে জানাবেন। সাক্ষাৎকারটি কমিটির স্টাফদের সঙ্গে হবে এবং সম্পূর্ণ রেকর্ড করা হবে। ম্যান্ডেলসনকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার উত্তর জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
হাউস ওভারসাইট কমিটির কাছে ম্যান্ডেলসনকে বাধ্য করার কোনো আইনি ক্ষমতা নেই, তাই এই অনুরোধটি স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে করা হয়েছে। গার্সিয়া ও সুভরমণ্যাম উভয়ই কমিটির সদস্য হিসেবে এপস্টেইনের যৌন পাচার নেটওয়ার্কের সহ-অপরাধী ও সহায়কদের পরিচয় উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এপস্টেইনের অপরাধের পূর্ণ পরিধি বোঝা এবং ভবিষ্যতে এধরনের নেটওয়ার্কের পুনরাবৃত্তি রোধ করা জরুরি।
চিঠির মূল অংশে বলা হয়েছে, “আপনার সঙ্গে এপস্টেইনের বিস্তৃত সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংযোগ ছিল এবং আমাদের তদন্তের জন্য আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।” এই বক্তব্যটি ম্যান্ডেলসনের সম্ভাব্য সাক্ষ্যের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। কমিটি তার স্টাফদের সঙ্গে একটি লিখিত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করতে চায়, যাতে সব তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা যায়।
এপস্টেইন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের আগ্রহের প্রমাণ হিসেবে, একই কমিটির ১৬জন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা গত নভেম্বর মাসে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটন উইন্ডসরের কাছেও অনুরূপ অনুরোধ জানিয়েছিলেন। মাউন্ডব্যাটন উইন্ডসর, যিনি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং পূর্বে প্রিন্সের উপাধি পেয়েছিলেন, তাকে এপস্টেইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।
অক্টোবর মাসে মাউন্ডব্যাটন উইন্ডসরের প্রিন্স উপাধি এবং অন্যান্য শিরোনাম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা এপস্টেইন স্ক্যান্ডালের সঙ্গে তার সম্পর্কের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো অপরাধে দোষী না হলেও, তার সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে এপস্টেইনের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিবিএস ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কমিটির চিঠি ও অনুরোধের বিষয়ে তিনি কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি, ফলে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই অনুরোধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ম্যান্ডেলসনের মতো উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এপস্টেইনের সংযোগ প্রকাশিত হলে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের এই ধরণের তদন্তের লক্ষ্য হল এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের গঠন ও সহায়কদের সনাক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। ম্যান্ডেলসনের সাক্ষ্য যদি প্রদান করা হয়, তবে তা তদন্তের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে, ম্যান্ডেলসনের পূর্বের দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা চাওয়া ইতিমধ্যে জনমতকে প্রভাবিত করেছে। তার এই প্রকাশনা কিছু সমর্থকদের কাছ থেকে সমবেদনা পেয়েছে, তবে সমালোচকরা এখনও তার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
কমিটির সদস্যরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, ম্যান্ডেলসনের সহযোগিতা না পেলে তদন্তের অগ্রগতি ধীর হতে পারে, তবে তারা আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া কোনো জোরপূর্বক পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তাই ম্যান্ডেলসনের সিদ্ধান্ত এই তদন্তের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটি পিটার ম্যান্ডেলসনকে এপস্টেইন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে এবং একটি লিখিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তার উত্তর ও সম্ভাব্য সহযোগিতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই উচ্চ-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে।



