জাতীয় নাগরিক দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও স্বাধীন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় তার পার্টির সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফলস্বরূপ হাতিয়ার বাসিন্দারা আনন্দের বদলে ভয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
মাসউদের মতে, বিজয় ঘোষণার পর থেকে হাতিয়ার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে আক্রমণ এবং শারীরিক হিংসা সহ নানা অপরাধের সাক্ষী হতে হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত কয়েক দিনে হাতিয়ার প্রায় সাড়ে চারশো বাড়ি ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং শতাধিক দোকান লুটপাট ও ধ্বংসের শিকার হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে এমন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, যাদের অবস্থা জুলাই ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের সময়ের মতোই গুরুতর।
মাসউদ নিজেও নির্বাচনের দিন সকালে তার গাড়িতে সরাসরি হামলার শিকার হন। তিনি জানান, তার স্ত্রী, বাবা এবং ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ওপরও একাধিকবার সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই সময়ে কয়েকজন সাংবাদিককে শারীরিক আঘাতপ্রাপ্ত করে পিটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হাতিয়ার এই সহিংসতার পেছনে, জাতীয় নাগরিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ধান শীষ প্রতীকের অধীনে নির্বাচিত হওয়া মাহবুবুর রহমান শামীমকে দায়ী করা হয়েছে। মাসউদের মতে, শামীমের সমর্থকগণই এই হিংসাত্মক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
এদিকে, মাসউদ জোর দিয়ে বলেন, হাতিয়ার ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এই সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিরোধিতা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফলই এই জনগণের শান্তিপূর্ণ ইচ্ছার প্রকাশ।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত-এ-ইসলামির রমনা থানার আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, উপজেলা আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, জামায়াতের পৌর মেয়র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ তাফসির, উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা এবং ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরসহ প্রায় দশজন জাতীয় নাগরিক দলের নেতাকর্মী, যাঁরা হামলায় আহত হয়েছেন।
মাসউদের বক্তব্যের পর পার্টির অন্যান্য নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সহিংসতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা স্থানীয় শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, হাতিয়ার এই অস্থিরতা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক গতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, জাতীয় নাগরিক দল ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে, স্থানীয় প্রশাসনকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হতে পারে।
অবশেষে, মাসউদ উল্লেখ করেন, হাতিয়ার মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান করা উচিত। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, সহিংসতা বন্ধ করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে, উন্নয়নমূলক কাজের দিকে মনোযোগ দিতে।



