18 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনলরেন্স অলিভিয়ের ‘হ্যামলেট’ ও চ্লোয়ে ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’ের একসাথে পুরস্কার যাত্রা

লরেন্স অলিভিয়ের ‘হ্যামলেট’ ও চ্লোয়ে ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’ের একসাথে পুরস্কার যাত্রা

লরেন্স অলিভিয়ের ১৯৪৮ সালের ‘হ্যামলেট’ এবং চ্লোয়ে ঝাওয়ের সাম্প্রতিক ‘হ্যামনেট’ দুটোই অস্কার প্রার্থনা তালিকায় নাম নেয়, যা শেক্সপিয়ারের ক্লাসিক ট্র্যাজেডির দুই প্রজন্মের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরে।

অলিভিয়ার ‘হ্যামলেট’ ইংরেজি ভাষায় প্রথম সাউন্ড ফিল্ম হিসেবে শেক্সপিয়ারের নাটককে বড় পর্দায় উপস্থাপন করে। তিনি নিজে পরিচালনা ও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন, এবং ১৯৩৭ সালে লন্ডনের ওল্ড ভিক থিয়েটারে হ্যামলেটের ভূমিকায় প্রথম অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

১৯৪৪ সালে শেক্সপিয়ারের ‘হেনরি ভি’ পরিচালনা করে অলিভিয়ার প্রথম দিকের পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি পান, যেখানে তার অভিনয়কে সম্মানজনক অস্কার পুরস্কার দেওয়া হয়। এরপর তিনি ১৯৪৮ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রবন্ধে শেক্সপিয়ার যদি আজও জীবিত থাকতেন তবে তিনি কীভাবে ‘হ্যামলেট’ রূপায়ণ করতেন, তা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।

‘হ্যামলেট’ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮-এ মুক্তি পায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩.৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা আজকের মুদ্রায় প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলারের সমান। চলচ্চিত্রটি সাতটি অস্কার প্রার্থীতা পায় এবং চারটি পুরস্কার জিতে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানিত বেস্ট পিকচার পুরস্কারও অন্তর্ভুক্ত।

এই বিজয়টি ব্রিটিশ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবারের মতো বেস্ট পিকচার জেতার রেকর্ড তৈরি করে। অলিভিয়ারও ইতিহাস রচয়িত হন, কারণ তিনি পরিচালনা করে নিজেই অভিনয় করে বেস্ট অ্যাক্টর পুরস্কার জিতেন, যা আগে কখনো ঘটেনি।

চিত্রের পোশাক নকশা দায়িত্বে ছিলেন রজার কে. ফার্স, যিনি কালো-সাদা বিভাগে প্রথম বেস্ট কস্টিউম পুরস্কার জিতেন। একই সঙ্গে তিনি আর্ট ডিরেকশন (বর্তমানে প্রোডাকশন ডিজাইন) বিভাগে ক্যারমেন ডিলনের সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করেন।

চ্লোয়ে ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’ও একইভাবে অস্কার বেস্ট পিকচার, কস্টিউম এবং প্রোডাকশন ডিজাইন বিভাগে প্রার্থীতা পেয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি শেক্সপিয়ার এবং তার স্ত্রী অ্যাগনেসের ব্যক্তিগত জীবনের গভীরে প্রবেশ করে, যেখানে শেক্সপিয়ার ‘হ্যামলেট’ রচনার সময়ের অন্তর্দৃষ্টি প্রকাশ পায়।

‘হ্যামনেট’এ পল মেসক্যাল শেক্সপিয়ারকে, জেসি বাকলি অ্যাগনেসকে অভিনয় করেছেন। দুজনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শেক্সপিয়ারের সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া চলচ্চিত্রের মূল বিষয়বস্তু, যা দর্শকদেরকে নাটকের পেছনের মানবিক দিকগুলো দেখায়।

অলিভিয়ার এবং ঝাওয়ের কাজের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে; অলিভিয়ার মূল নাট্যকর্মকে সরাসরি পুনর্নির্মাণের দিকে মনোনিবেশ করেন, আর ঝাওয়ের সংস্করণটি নাটকের লেখার সময়ের ব্যক্তিগত গল্পকে কেন্দ্র করে। তবু উভয়ই শেক্সপিয়ারের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ভাগ করে।

‘হ্যামনেট’ মূলত শেক্সপিয়ার এবং তার পরিবারের জীবনের একটি কাল্পনিক চিত্রায়ন, তবে এটি ঐতিহাসিক পটভূমি ও নাটকের সৃষ্টিকালকে যথাযথভাবে পুনর্নির্মাণ করে। চলচ্চিত্রের নকশা, পোশাক এবং সেটের বিশদ কাজগুলো অলিভিয়ারের ‘হ্যামলেট’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে।

অলিভিয়ারের ‘হ্যামলেট’ যে সময়ে চলচ্চিত্র জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল, আজ ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’ সেই ঐতিহ্যকে পুনরায় সমসাময়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্নির্মাণ করছে। উভয় চলচ্চিত্রের অস্কার প্রার্থীতা এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে শেক্সপিয়ারের গল্পের প্রতি আগ্রহ কখনো কমে না।

চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উভয় কাজই দেখার মাধ্যমে শেক্সপিয়ারের নাট্যকলা এবং তার পেছনের মানবিক গল্পের গভীরতা অনুভব করতে পারবেন। ঐতিহাসিক ‘হ্যামলেট’ এবং আধুনিক ‘হ্যামনেট’ দুটোই সমসাময়িক দর্শকের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা সিনেমা ও সাহিত্য উভয়েরই সমৃদ্ধি বাড়ায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments