মারাঠি চলচ্চিত্র ‘বাইপান ভরি দেবা’ ৭ মার্চ থিয়েটারে পুনরায় প্রদর্শনের সূচনা করেছে। এই পদক্ষেপটি জিও স্টুডিওসের সমর্থনে নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগের দিনটি বিশেষভাবে নারীদের সম্মানে নির্ধারিত। চলচ্চিত্রটি কেদার শিন্দের পরিচালনায় তৈরি এবং মারাঠি সিনেমার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুনরায় মুক্তি পাবে।
ফিল্মটি প্রথমবারের মতো ৩০ জুন ২০২৩-এ বড় পর্দায় প্রকাশিত হয়। মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশাল দর্শকসীমা অতিক্রম করে এবং মারাঠি চলচ্চিত্রের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় অর্জন করে। বক্স অফিসে এর সাফল্য দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন মাইলফলক স্থাপন করে।
বৈশ্বিক বাজারে মারাঠি সিনেমার অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ‘বাইপান ভরি দেবা’ তার বাণিজ্যিক সাফল্যের মাধ্যমে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। এই সাফল্যই পুনরায় প্রদর্শনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। দর্শকদের ধারাবাহিক চাহিদা এবং চলচ্চিত্রের স্থায়ী জনপ্রিয়তা পুনরায় মুক্তির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।
পুনরায় মুক্তির জন্য বিশেষ ট্রেলারটি আজ ‘ছাভা’ ছবির সঙ্গে একসাথে থিয়েটারে প্রদর্শিত হচ্ছে। ‘ছাভা’ আজই বড় পর্দায় প্রকাশিত হওয়ায় দুটো চলচ্চিত্রের সমন্বয় দর্শকদের অতিরিক্ত আকর্ষণ প্রদান করছে। নতুন ট্রেলারে চলচ্চিত্রের মূল থিম এবং সঙ্গীতের ঝলক দেখা যাচ্ছে, যা আগের দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের উদযাপনের অংশ হিসেবে এই পুনরায় মুক্তি পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৮ মার্চের এই বিশেষ দিনকে সম্মান জানিয়ে ৭ মার্চের রিলিজটি নারীদের জন্য একটি উপহার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের গল্পে নারীর শক্তি এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন রয়েছে, যা এই দিনটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিচালক কেদার শিন্দে পুনরায় মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বাইপান ভরি দেবা সবসময়ই বিশেষ একটি কাজ, এবং এর পুনরায় প্রদর্শন তার চিরন্তন বার্তা ও থিমের উদযাপন। জিও স্টুডিওসের অবিচল সমর্থন ছাড়া এই উদ্যোগ সম্ভব হতো না।’ তিনি নতুন ও পুরনো দর্শকদের জন্য বড় পর্দায় চলচ্চিত্রের জাদু অনুভবের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই প্রকল্পটি জিও স্টুডিওসের উপস্থাপনা এবং মধুরি ভোসলে ও জ্যোতি দেশপাণ্ডের প্রযোজনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে। বেলা শিন্দে এবং অজিত ভূরে সহ-প্রযোজনা হিসেবে কাজ করেছেন। সমগ্র প্রযোজনার পেছনে একটি শক্তিশালী টিমের সমন্বয় রয়েছে, যা চলচ্চিত্রের গুণগত মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
চলচ্চিত্রের কাস্টে রোহিনী হাট্টাঙ্গাদি, ভন্দনা গুপতে, সুচিত্রা বান্দেকর, শিল্পা নাভালকার, দীপা পারাব চৌধুরী এবং সুকন্যা কুলকর্ণি মোনে সহ বহু অভিজ্ঞ শিল্পী রয়েছেন। প্রত্যেক অভিনেতা তাদের চরিত্রে গভীরতা ও স্বতন্ত্রতা যোগ করেছেন, যা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাদের পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রের সাফল্যের অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।
সঙ্গীতের দায়িত্ব সাই-পিয়ুশের ওপর দেওয়া হয়েছে, আর গীতিকবিতা বৈশালী নায়িকের রচনায় রচিত। সুরের মেলোডি এবং গানের কথায় গল্পের আবেগকে আরও উজ্জ্বল করে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকটি দর্শকদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে এবং পুনরায় মুক্তির সময় আবার শোনার সুযোগ দেবে।
‘বাইপান ভরি দেবা’ পুনরায় থিয়েটারে আসার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। চলচ্চিত্রের পুনরায় প্রদর্শন মারাঠি সিনেমার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দর্শকদের মধ্যে পুনরায় আলোড়ন সৃষ্টি করবে। আগ্রহী দর্শকরা ৭ মার্চের রিলিজে অংশগ্রহণ করে এই চিরন্তন গল্পের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।



