নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একরামপুর, নূরবাগ ও মুছাপুর ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের কর্মী‑সমর্থকদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ জানান, আক্রমণটি বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালামের কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
মাহমুদুলের মতে, একরামপুরের ইস্পাহানি বাজারে শামীম নামের কর্মীকে গুলি করে আহত করা হয় এবং তার বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়। একই এলাকায় আনোয়ারকে মারধর করা হয় এবং রিকশা গ্যারেজে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। নূরবাগের সীমানা এলাকাতেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।
মুছাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে সমর্থকদের ওপর শারীরিক হিংসা ও সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগও একই সময়ে করা হয়েছে। শামীম, যাকে আক্রমণের শিকার বলা হয়েছে, নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
আবুল কালামের পুত্র, যিনি বিএনপি‑এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রাক্তন কাউন্সিলর, এই অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে খণ্ডন করেন। তিনি বলেন, ধানের শীষের কোনো কর্মী‑সমর্থক এই ধরনের হিংসায় জড়িত নয় এবং দল সব মতের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখে। তাছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকের ব্যবহারকে তিনি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখেন না, তাই এই অভিযোগগুলোকে ইস্যু তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
বন্দর থানা ওসির মতে, পুলিশ একরামপুরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিকভাবে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ হিসেবে বিবেচনা করেছে। তিনি জানান, অভিযোগকারীকে থানায় অভিযোগ দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, অন্যান্য স্থানীয় ঘটনাগুলোর তদন্ত চলমান এবং এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করবে।
এই ঘটনার পটভূমিতে নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ও বিজয়ী প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, এ ধরনের হিংসা নির্বাচনী ফলাফলের প্রতি অসন্তোষের প্রকাশ হতে পারে, তবে পক্ষগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব এখন এই অভিযোগগুলোকে ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধান করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে, যাতে রাজনৈতিক পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
প্রতিপক্ষের উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করছে; স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা নিরাপত্তাহীনতা ও হিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে আইনগত সহায়তা চাচ্ছেন, আর বিএনপি কর্মীরা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্থানীয় থানা ওসির নির্দেশে প্রভাবিত পক্ষগুলোকে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং পুলিশ তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের কর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা অবলম্বন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্দর উপজেলার এই তিনটি ইউনিয়নে ঘটিত হিংসা ও সম্পত্তি ক্ষতি নির্বাচনী পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ উভয় পক্ষের দ্বিমত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সূচক। তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে এই বিষয়ের চূড়ান্ত সমাধান নির্ধারিত হবে।



