কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) শুক্রবার তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছে যে, আসন্ন সরকারকে সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রেস স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এই আহ্বানটি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন প্রশাসনের দায়িত্বের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা অপরিহার্য।
CPJ-এর পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্ব নির্বাচনী সময়ে তারা বিএনপি, জামায়াত-এ-ইসলামি, জাতীয় নাগরিক দল এবং জাতীয় পার্টি সহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই চিঠিগুলোতে মিডিয়া ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং সাংবাদিকদের ওপর বাড়তে থাকা হুমকির বিষয়ে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছিল।
সংগঠনটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে হিংসা, ভয় দেখানো এবং অপরাধমূলক বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনকে সাংবাদিকদের দমনমূলক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করেছে। এই ধরনের আইনগত দমনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রেস স্বাধীনতা রক্ষা করা কেবল সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য মৌলিক শর্ত। নতুন সরকারকে এই দিকটি অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যাতে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং নাগরিকদের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হয়।
CPJ জানিয়েছে যে, ২৯ জানুয়ারি তারা দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চিঠি পাঠানোর তথ্য প্রকাশ করেছে। চিঠিগুলোতে নির্বাচনের পূর্বে সাংবাদিকদের ঝুঁকি বাড়ার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা নির্বাচনী পরিবেশে মিডিয়ার ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ডিসেম্বর মাসে দুইটি প্রধান সংবাদপত্রের অফিসে—প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার—দলীয় হিংসা ঘটেছিল। এই ঘটনা মিডিয়া নিরাপত্তার জন্য একটি উদ্বেগজনক পূর্বদৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশকে আরও অনিরাপদ করে তুলেছে।
সিপিজে এই ঘটনাগুলোকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী চক্রে পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য সতর্কতা স্বরূপ উল্লেখ করেছে এবং সরকারকে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে ত্বরান্বিত হতে আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, হিংসা ও ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাজ বাধাগ্রস্ত করা কোনো রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
অবশেষে, সিপিজে জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রেস স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সরকারকে কেবল নীতি নয়, বাস্তবিক পদক্ষেপও নিতে হবে। নতুন প্রশাসনের অধীনে যদি এই আহ্বানগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে এবং মিডিয়া ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার হবে।



