ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রী ছাত্র সংসদের ভাইস‑প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম ফেসবুকে পোস্ট করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হুমকির অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীরা নৃশংস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের ছাত্রদের লক্ষ্য করে হুমকি দিচ্ছেন।
কায়েমের পোস্টে তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে আহ্বান জানান, যেন তারা দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করে এবং নির্বাচনী এলাকা সহ সব স্থানে সংঘাত‑রাজনীতি বন্ধ করে ভিন্নমতের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দল ও প্রতিনিধিদের উচিত সকল ধরণের সহিংসতা বন্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখা।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কায়েমের মন্তব্য তীব্র। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন হামলা থামাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং একের পর এক ঘটমান সহিংসতা নাগরিকদের রক্তাক্ত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তিনি ছাত্রসংঘকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কায়েমের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্রের উত্থানকে আমরা অনুমোদন করব না, ইনশাআল্লাহ।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসন বিএনপি জয়ী হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮টি আসনে নির্বাচিত হয়েছে।
বিএনপি-র বিশাল জয় এবং জামায়াতে ইসলামী-র উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করছে। সাদিক কায়েমের মন্তব্যের পটভূমিতে দেখা যায়, নির্বাচনের পরপরই ক্ষমতাসীন দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিএনপি-র নেতাকর্মীদের উপর সাদিকের অভিযোগে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই নেতারা সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে, যা ছাত্রসংঘ ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে।
কায়েমের পোস্টে উল্লেখিত “দায়িত্বশীল আচরণ” এবং “সংঘাত‑রাজনীতি বন্ধ” আহ্বানটি দেশের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলবেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কায়েমের সমালোচনা, বিশেষ করে “নির্বিকার” শব্দ ব্যবহার করে, প্রশাসনের অকার্যকারিতা প্রকাশ করে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকে, তবে নাগরিকদের ক্ষতি বাড়বে এবং সামাজিক অশান্তি তীব্র হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিন্নমতের ছাত্রদের প্রতি হুমকি ও সহিংসতা, কায়েমের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত চালের অংশ। তিনি ছাত্রসংঘকে একত্রিত হয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সন্ত্রাসী বা মাফিয়াতান্ত্রিক কার্যক্রমের সুযোগ না থাকে।
এই পোস্টের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা করছেন। যদি ক্ষমতাসীন দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কায়েমের আহ্বান মেনে চলেন, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, যদি সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশে সাদিক কায়েমের মন্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি ক্ষমতাসীন দল, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ, সহিংসতা বন্ধ এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চেয়েছেন।



