শুক্রবার লোকসভার অ-তারকাচিহ্নিত প্রশ্নোত্তর সেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য মালা রায় গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, ভারত সরকার কি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কোনো সমন্বয় হয়েছে কিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং এই প্রশ্নের উত্তর দেন এবং চুক্তির বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করেন।
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি উভয় দেশের গঙ্গা নদীর পানির বণ্টন নির্ধারণ করে এবং ৩০ বছরের মেয়াদে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো নবায়ন আলোচনা শুরু হয়নি।
মন্ত্রীর উত্তরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা হয়নি। যদিও দু’দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় আছে, তবে নবায়ন সংক্রান্ত কোনো সমন্বয় দল গঠন করা হয়নি। ফলে বর্তমান চুক্তি তার নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার যদিও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেনি, তবু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি প্রতিনিধিদল গঙ্গা পানিবণ্টন বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয়িক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে। এই দলটি ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ১৫ মার্চ ২০২৪, ৩১ মে ২০২৪ এবং ২৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত মিটিংগুলোতে উপস্থিত ছিল। বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং পশ্চিমবঙ্গের নদী-নির্ভর জেলা গুলোর স্বার্থ বিবেচনা করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ধারাবাহিক মিটিংয়ের মাধ্যমে একটি যৌথ মত গঠন করা হয়েছে। এই মতটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই যৌথ মতকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার আদেশে রূপান্তর করা হয়নি। ফলে নবায়ন প্রক্রিয়া এখনও প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশ মোট ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে, তবে গঙ্গা ছাড়া অন্য কোনো নদীর পানিবণ্টন চুক্তি এখনো নেই। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এই অবস্থা দুই দেশের মধ্যে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জকে বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সকল সাধারণ নদীর জন্য একটি সমন্বিত চুক্তি গঠন ভবিষ্যৎ বিরোধ কমাতে সহায়ক হবে।
লোকসভার প্রশ্নের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট। মালা রায়ের প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের উদ্বেগের প্রতিফলন, যাঁদের অনেকেই গঙ্গার ওপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রীয় সরকারের সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং দেশীয় চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। নবায়ন নিয়ে কোনো বিলম্ব উভয় দেশের কৃষি পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নির্ধারিত, যা উভয় সরকারকে আলোচনার জন্য স্পষ্ট সময়সীমা প্রদান করে। মেয়াদ শেষের পর নবায়ন আলোচনা অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পশ্চিমব



