শুক্রবার রাত প্রায় ৮ টা বাজে চট্টগ্রাম‑চাঁদপুর পথে চলমান আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগির মধ্যে তীব্র ধাক্কা লাকসাম রেলওয়ে জংশনের ৫ নম্বর লাইনে ঘটেছে। ধাক্কার ফলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে চাঁদপুর‑চট্টগ্রাম রুটে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের দিকে অগ্রসর হয়ে রাতের প্রায় ৮ টায় লাকসাম জংশনের রেললাইন প্রবেশ করেছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ইঞ্জিন সংযোগের কাজ চলাকালে বগি ও ইঞ্জিনের মধ্যে অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষ ঘটায়, ফলে রেলপথ থেকে ট্রেনটি সরে যায়।
ধাক্কা ঘটার মুহূর্তে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মামুনসহ মোট পাঁচজন যাত্রী আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুইজনকে জরুরি সেবা প্রদান করে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, অন্য তিনজনকে ট্রেনের ভিতরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের অবস্থার আপডেট এখনও প্রকাশিত হয়নি।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক জানান, ধাক্কা ঘটার পরই রেললাইন পরিষ্কার ও বগি-ইঞ্জিন পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত কাজ করে ট্রেনের বগি ও ইঞ্জিনকে রেলপথে পুনরায় স্থাপন করে, তবে রেললাইন মেরামত ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হবে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রেলওয়ে তদন্ত কমিশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তের মূল দিকগুলোতে ইঞ্জিন‑বগি সংযোগের প্রক্রিয়া, রেললাইন সিগন্যালিং সিস্টেমের অবস্থা এবং রেলওয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ মান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। রেলওয়ে আইন অনুসারে, রেললাইন নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়বদ্ধ হতে পারেন এবং জরিমানা বা শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকে।
এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম‑চাঁদপুর রুটে যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাস ও রিকশা সেবার মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা চালু করেছে। একই সঙ্গে, রেলওয়ে সেবা পুনরায় চালু হওয়া পর্যন্ত রুটের তথ্য ও সময়সূচি নিয়মিত আপডেট করা হবে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা সংস্থা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিন‑বগি সংযোগের সময় সিগন্যালিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ পুনর্বিবেচনা করা এবং রেললাইন পর্যবেক্ষণ সিস্টেমের আধুনিকায়ন করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও উদ্ধার কাজের প্রশংসা করা হয়েছে, তবে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। রেলওয়ে নিরাপত্তা বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে।
এই দুর্ঘটনা রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



