20 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাজীপুরের কোনাবাড়িতে টিনশেড গুদামে অগ্নিকাণ্ড, দুই ঘণ্টারও কম সময়ে নিভে গেল

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে টিনশেড গুদামে অগ্নিকাণ্ড, দুই ঘণ্টারও কম সময়ে নিভে গেল

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি টিনশেড গুদামে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপে রাত ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গুদামটি আমবাগ ঈদগাঁ ময়দানের কাছাকাছি, কনাবাড়ি থানার সীমার মধ্যে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনটি মাঠের পশ্চিম দিকের গুদামে হঠাৎ জ্বলে উঠেছিল এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো কাঠামোতে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে স্থানীয় মানুষ দ্রুত গুদামের কাছের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে জানায়। তৎক্ষণাৎ দুইটি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত দুইটি ইউনিট যোগ দিয়ে মোট চারটি ইউনিটের সমন্বয়ে কাজ চালিয়ে যায়। অতিরিক্ত কর্মীরা পানির হোসা, ফোম এবং অন্যান্য অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুনের বিস্তার রোধ করে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, টিনশেড গুদামের কাঠামোতে অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে সঠিক কৌশল ও সমন্বিত কাজের ফলে আগুন দুই ঘণ্টারও কম সময়ে নিভে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন। গুদামের মালিক ও আশেপাশের ব্যবসায়ীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি দাবি করে।

গাজীপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গুদামটি টিনশেড দিয়ে নির্মিত এবং অগ্নি নিয়ন্ত্রণে চারটি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টা কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্ষতির পরিমাণ ও সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালু করে। প্রাথমিক তদন্তে কোনো সন্দেহভাজন বা দায়ী ব্যক্তির সনাক্তকরণ করা যায়নি, তবে গুদামের নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন করা হবে।

অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন গুদামের নির্মাণ ও ব্যবহারের নথি পর্যালোচনা করবে। কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা অযথা ঝুঁকি সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অগ্নিকাণ্ডের পর স্বস্তি প্রকাশ করে, তবে একই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য যথাযথ সতর্কতা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে। তারা ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত কাজের প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা চায়।

গাজীপুরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনুরূপ অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে। বিশেষ করে টিনশেড গুদাম ও অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষেত্রে অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, টিনশেডের মতো হালকা গঠনযুক্ত কাঠামোতে অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সময় লাগে। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের গুদামের জন্য কঠোর নির্মাণ মানদণ্ড ও নিয়মাবলী প্রয়োগ করতে হবে।

গাজীপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে অগ্নি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা অপরিহার্য। তারা স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিদর্শন চালিয়ে যাবে।

এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা পুনর্বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব করবে। জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে যে, অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments