DP World-র চেয়ারম্যান ও সিইও সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ইমেইল সংযোগ প্রকাশের পর কোম্পানি ত্যাগ করেছেন। এপস্টেইনের অপরাধমূলক রেকর্ডের আলোকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চাপ বাড়ার ফলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সুলায়েমের দশ বছরব্যাপী এপস্টেইনের সঙ্গে শত শত ইমেইল বিনিময় করা হয়েছে বলে নতুন ফাইলগুলোতে দেখা যায়। এই ইমেইলগুলোতে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত বিষয়ের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত, তবে কোনো অবৈধ কাজের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফাইলের উল্লেখই অপরাধের ইঙ্গিত নয়, এ বিষয়ে BBC-কে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। কোম্পানি এখনো সুলায়েমের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাবেনি।
DP World শুক্রবার নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেয়। এসা কাজিমকে চেয়ারম্যান এবং ইউভরাজ নারায়ণকে সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনা দল কোম্পানির কৌশলগত দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুলায়েমের ছবি এবং প্রোফাইল DP World-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি তার পদত্যাগের পর তৎক্ষণাৎ নেওয়া হয়েছে।
DP World, দুবাই-ভিত্তিক লজিস্টিকস জায়ান্ট, ছয়টি মহাদেশে বন্দর টার্মিনাল পরিচালনা করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে বহু বহুজাতিক সংস্থা অন্তর্ভুক্ত।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কোম্পানির ওপর ব্যবসায়িক অংশীদারদের থেকে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স এজেন্সি এবং কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেনশন ফান্ড লা ক্যাসে, দু’টি সংস্থা নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রিন্স অফ ওয়েলসের আর্থশট প্রকল্প, যা DP World থেকে তহবিল পেয়েছিল, সুলায়েমের নাম ফাইলের মধ্যে উঠে আসার পর যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনে রিপোর্ট করা হয়েছে। এই রিপোর্টটি প্রকল্পের তহবিল ব্যবহারের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন আইনপ্রণেতা, রো খান্না ও থমাস ম্যাসি, সুলায়েমকে ছয়জন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে এক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যারা এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের জন্য দায়িত্বশীল আইনটি সহ-স্পনসর ছিলেন।
ফাইলগুলোতে ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে একটি ইমেইল দেখা যায়, যেখানে এপস্টেইন ২০০৯ সালে “টরচার ভিডিও” উল্লেখ করে। প্রাপক উত্তর দিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভ্রমণের কথা জানিয়েছেন, তবে সেই কথোপকথনের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনাগুলো DP World-র শেয়ারহোল্ডার ও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। নতুন নেতৃত্বের গঠন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের স্থগিত হওয়া কোম্পানির আর্থিক পরিকল্পনা ও বৃদ্ধির গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক ও জনমত পর্যবেক্ষণ বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন।



