অস্ট্রেলিয়ার রাত ২ টায় রোজ বায়ার ফোনে এক সাক্ষাৎকারের জন্য উঠে দাঁড়ালেন, যখন লস এঞ্জেলেসে (১৯ ঘণ্টা পিছিয়ে) তার অভিনীত চলচ্চিত্রের জন্য ওস্কার মনোনয়ন নিশ্চিত হয়। ৪৬ বছর বয়সী অভিনেত্রীটি এ২৪ প্রযোজিত ড্রামেডি “If I Had Legs I’d Kick You”‑এ প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যার গল্পে অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্যে থাকা একজন সাইকোথেরাপিস্ট তার পেডিয়াট্রিক ফিডিং ডিসঅর্ডার আক্রান্ত কন্যার যত্ন নিতে সংগ্রাম করে। চলচ্চিত্রটি মেরি ব্রনস্টেইন লিখে পরিচালনা করেছেন এবং এএসএপি রকি ও কনান ও’ব্রায়েনকে সহ-অভিনেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বায়ার ইতিমধ্যে একই ভূমিকায় গোল্ডেন গ্লোব জয় করেছেন এবং এখন স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের সেরা প্রধান পারফরম্যান্স বিভাগে মনোনয়নের তালিকায় আছেন, যা ১৫ ফেব্রুয়ারি হলিউড প্যালেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৫ সালের স্যান্ড্যান্স ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে এই কাজ এবং বায়ারের পারফরম্যান্স উভয়ই ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।
ফিল্মের কাহিনীটি পরিচালক মেরি ব্রনস্টেইনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; তিনি নিজের পরিবারে শিশুর খাবার গ্রহণের সমস্যার সঙ্গে সংগ্রাম করার সময় এই গল্পটি রচনা করেন। বায়ারকে এই জটিল চরিত্রে রূপান্তরিত করতে মানসিকভাবে গভীর প্রস্তুতি নিতে হয়, কারণ তিনি চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং পিতামাতার দায়িত্বের ভারকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বায়ার ববি কানাভালের সঙ্গে দুই সন্তান গড়ে তুলছেন, যা তার কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্ক্রিপ্টটি প্রথম দেখার মুহূর্তে তার কাছে অনন্য এবং অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী লাগেছিল, যা তাকে এই প্রকল্পে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যাওয়ার ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেছিল।
অভিনয় প্রক্রিয়ার সময় তিনি নিজেকে এক ধরনের উপহার হিসেবে উপলব্ধি করেন; এমন একটি সুযোগে তিনি সবকিছু চেষ্টা করতে চেয়েছেন, যা তাকে নতুন সীমা অতিক্রম করতে এবং নিজের দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, এই ভূমিকায় তিনি নিজেকে সর্বোচ্চভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছেন এবং প্রতিটি দৃশ্যকে গভীরভাবে অনুভব করার চেষ্টা করেছেন।
বিশেষ করে একটি দৃশ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি কঠিনতা অনুভব করেন, যেখানে চরিত্রটি তার কন্যার খাবার গ্রহণের সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করে এবং একই সঙ্গে নিজের মানসিক ক্লান্তি অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এই দৃশ্যটি শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকে বায়ারের জন্য কঠিন ছিল, তবে তিনি তা সফলভাবে সম্পন্ন করে দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছেন।
রোজ বায়ারের এই ওস্কার মনোনয়ন তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন শিখরে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেয়, এবং তিনি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় আছেন। শিল্প জগতে তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে, এবং চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু সমাজে শিশুর খাবার গ্রহণের সমস্যার প্রতি সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



