প্রাচীনকালে পৃথিবীকে ধ্বংসকারী শিক্সুলুব প্রহরার পর, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার কত দ্রুত ঘটেছে তা নতুন গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্লেষকরা শিলা স্তরের জমা হওয়ার হার পরিমাপ করে দেখেছেন যে, বৃহৎ বিলুপ্তির কয়েক হাজার বছরের মধ্যেই প্রথম সমুদ্রজীবের তরঙ্গ দেখা দিয়েছে।
৬৬ মিলিয়ন বছর আগে চন্দ্রপথের একটি বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার ফলে ডাইনোসরসহ বহু প্রজাতি নশ্বর হয়ে যায়। ঐ ঘটনার পর পৃথিবীর পরিবেশে বিশাল পরিবর্তন ঘটলেও, জীবনের পুনরুৎপাদন তুলনামূলকভাবে দ্রুত ঘটেছে বলে ধারণা করা হতো।
নতুন গবেষণায় শিলা স্তরের জমা হওয়ার গতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, বিলুপ্তির পর প্রথম সমুদ্রজীবের উত্থান মাত্র কয়েক হাজার বছরের মধ্যে ঘটেছে, যা পূর্বের অনুমানের তুলনায় অনেক দ্রুত। এই ফলাফলটি জীববৈচিত্র্যের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার গতি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
গবেষণার ফলাফল ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত জিওলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, শিলা স্তরের পুরুত্ব এবং ফসিলের উপস্থিতি বিশ্লেষণ করে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি পূর্বের অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করে, যা প্রায় ৩০,০০০ বছর পরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের জন্য এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে প্রাকৃতিক পরিবেশের তীব্র পরিবর্তনের পরেও জীববৈচিত্র্য দ্রুত পুনরুদ্ধার হতে পারে। বর্তমানের জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবসৃষ্ট চাপের প্রেক্ষাপটে এই ফলাফলটি ভবিষ্যৎ পরিবেশ নীতি গঠনে সহায়ক হতে পারে।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফলটি প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক সময়ে ইকোসিস্টেমের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বোঝার জন্য একটি বিরল সুযোগ প্রদান করে। তারা বলেন, জীবের বিবর্তন কত দ্রুত ঘটতে পারে তা এখন স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে।
অধিকাংশ তথ্য সমুদ্রের ক্ষুদ্র এককোষী জীব, প্ল্যাঙ্কটনিক ফোরামিনিফেরা, থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই জীবগুলো প্রাচীন সমুদ্রের সূক্ষ্ম জীববৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের খনিজ শেল শিলায় সংরক্ষিত থাকে।
বিশেষ করে “Parvularugoglobigerina eugubina” নামের একটি ফোরামিনিফেরা প্রজাতি এই সময়ের সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই প্রজাতির প্রথম উপস্থিতি শিলার স্তরে স্পষ্ট চিহ্ন রেখে দেয়, যা বিজ্ঞানীরা জীবনের পুনরুত্থানের সময় নির্ধারণে ব্যবহার করেন।
২০১১ সালে একটি ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত গবেষণায় এই চিহ্নের সময়সীমা প্রায় ৩০,০০০ বছর পরের হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা বর্তমানের নতুন ফলাফলের তুলনায় অনেক বেশি। সেই সময়সীমা মেক্সিকোর ইউকাটান উপদ্বীপের শিলা স্তরে নির্ণয় করা হয়েছিল।
নতুন বিশ্লেষণে শিলা স্তরের পুরুত্ব এবং ফসিলের স্তরবিন্যাসের সুনির্দিষ্ট পরিমাপের মাধ্যমে সময়সীমা কমিয়ে দেখানো হয়েছে। এই পদ্ধতি শিলার জমা হওয়ার হারকে সূক্ষ্মভাবে মাপার উপর ভিত্তি করে, যা পূর্বের অনুমানের চেয়ে অধিক নির্ভুলতা প্রদান করে।
এই গবেষণার ফলাফল বর্তমানের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করা যায়। যদি প্রাকৃতিক পরিবেশের বড় পরিবর্তনের পর জীববৈচিত্র্য দ্রুত পুনরুদ্ধার হতে পারে, তবে মানবসৃষ্ট পরিবেশগত চাপের মোকাবেলায় আমাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
পাঠক হিসেবে আপনি কি মনে করেন, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অন্তর্দৃষ্টি আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণে কীভাবে সহায়তা করতে পারে? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করুন।



