ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম আজ #dhakadiary হ্যাশট্যাগসহ একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে নারীবাদী ও নারী সংগঠনগুলোকে নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের ‘ব্যর্থ’ করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠীগুলো দরজায় দরজা গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, সমবায় গঠন এবং রাস্তায় নড়াচড়া না করার জন্য দায়ী।
এই অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক দায়িত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন, তবে সমালোচকরা এটিকে সুবিধাজনক কিন্তু অসত্য বলে চিহ্নিত করেন।
নারী ও ফেমিনিস্ট গোষ্ঠীগুলোকে নির্বাচন চালানোর যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়, না কোনো নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের জন্য অর্থায়িত মোবিলাইজেশন ইউনিট। তাদের মূল কাজ হল কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য নাগরিক আন্দোলন চালানো, যা প্রায়শই সরকারী নীতি ও কার্যক্রমের বিরোধিতা করে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি নির্বাচনী পোস্টার উত্থাপনের আগের সময় থেকেই বিদ্যমান। যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীর ওপর সহিংসতা বাড়ছিল, তখন রাজনৈতিক দল নয়, বরং নারী নেতা ও কর্মীরা একত্রিত হয়ে জরুরি বৈঠক আয়োজন করতেন, দাবি নির্ধারণ করতেন এবং রাষ্ট্রের অমনোযোগের মুখে পদক্ষেপের আহ্বান জানাতেন।
সেই বৈঠকগুলোকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিকল্প নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পরিত্যাগের পরিপূরক হিসেবে দেখা হয়। সরকারী দায়িত্বে ঘাটতি থাকলে নারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়মূলক সেশন চালু করতেন, যাতে অপরাধের প্রতিবেদন ও শিকারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকগুলোকে ‘এয়ার-কন্ডিশনড’ সেমিনার হিসেবে উপহাস করা হয়েছে। তবে বাস্তবে সেগুলো ছিল এমন একটি পরিবেশ যেখানে নারীরা নিরাপদে তাদের অভিযোগ তুলে দিতে পারতেন এবং ন্যায়বিচার চেয়ে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের দাবি জানাতেন।
প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, সরকার কীভাবে নারীর নিরাপত্তা ও সংসদীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে যখন কোনো তরুণ পুরুষ কর্মী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “আমি জারা (একজন নারী প্রার্থী)কে সংসদে দেখতে চাই না”, তখন সরকারী প্রতিক্রিয়া কী ছিল? এই ধরনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা নারীবাদী গোষ্ঠীকে ‘বেশ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
এছাড়া, নারী সংস্কার কমিশনের কাজকে অবমাননা করা হয়েছে, তার সুপারিশগুলো বাতিল করা হয়েছে এবং কমিশনের সদস্যদের প্রভাবশালী অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী দায়িত্বের স্পষ্টতা অনুপস্থিতি দেখা যায়।
নারী প্রার্থীদের জয়লাভে সরকার কী ধরনের সহায়তা প্রদান করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তীব্র। নির্বাচনী প্রচারণায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
এই বিতর্কের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে নারীর ভূমিকা ও অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনার দরজা খুলে গেছে। সরকার যদি নারীর নিরাপত্তা ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে নারীর অধিকার সংরক্ষণে গৃহীত নীতি ও সংস্কারগুলোকে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
অবশেষে, নারীবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম ও সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় না হলে, নির্বাচনী ফলাফল ও সামাজিক ন্যায়বিচার উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে। এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



