গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিকেলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একটি প্রেস কনফারেন্সে জানালেন, সরকারবিহীন অবস্থায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারাধীন করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সম্পন্ন হবে।
আহমদ বলেন, আইনগত ভিত্তিতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) দাবি করা যাবে এবং তা দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের সরকারকে একত্রে কাজ করে তাকে ফিরে পাঠিয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় আনা দরকার।
বিএনপি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনটি মূল লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেবে: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নির্মূল করা। এসব লক্ষ্যকে ভিত্তি করে নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণের কথা আহমদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
বিএনপি নেতা জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধানিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে ৩১ ধারার একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত জাতীয় চুক্তিপত্রকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলে আহমদ নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তিপত্রে উল্লিখিত নীতি ও প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারের কর্মসূচিতে মূল ভূমিকা পালন করবে।
বিএনপি জয়কে ব্যাপক প্রত্যাশা হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে আহমদ আশাব্যঞ্জকভাবে জানান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিকেলের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারি করবে। তিনি এই প্রজ্ঞাপনকে সরকার গঠনের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে রক্ষা করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখবে। আহমদ বলেন, এই নীতি অনুসারে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
শেষে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের লক্ষ্য কেবল অভ্যন্তরীণ সংস্কার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বকীয় অবস্থানকে শক্তিশালী করা। এ জন্য বিদেশি নীতি, বিশেষত ভারতীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।



