20 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপঞ্চগড়ে চকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে বিএনপি নেতা উপস্থিত

পঞ্চগড়ে চকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে বিএনপি নেতা উপস্থিত

১৩ই মার্চের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন, পঞ্চগড় সদর উপজেলা চকলাহাট ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়া হয়। তালা অপসারণের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু দাউদ প্রধাণ।

ঘটনাটি সকালবেলায় ঘটেছে, যখন আবু দাউদ প্রধাণ তালা খুলতে অনুরোধ করেন। তিনি জানান, তালাটি জামায়াত‑ই‑ইসলামি কর্মীদের দ্বারা স্থাপিত ছিল এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ও শান্তি বজায় রাখতে এটি খুলতে বলা হয়েছিল।

তালার কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ যৌথ সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের সর্বত্র বিশাল জয় অর্জন করে সরকার গঠন করতে চলেছে এবং প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন অফিসের তালা খুলে দিয়েছে। বুলেট তালা হাতে তুলে নিয়ে উপস্থিত ভিড়ের সামনে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বুলেটের বক্তব্যে তিনি অতীতের কিছু ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, যারা দেশের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছিল এবং প্রো‑ইন্ডিপেনডেন্স শক্তিগুলোকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল, তারা বাড়ি ও অফিসে হামলা চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর তিনি আবু দাউদ প্রধাণের এই কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঘটনার ভিডিও, যার দৈর্ঘ্য এক মিনিট পঁয়ত্রিশ সেকেন্ড, ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। ভিডিওতে বুলেটের সঙ্গে সঙ্গে এক প্রাক্তন ইউনিয়ন পরিষদ প্রধান ও স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ নাগরিকদের মন্তব্যে বিভাজন দেখা যায়। কিছু মন্তব্যকারী এই কাজকে শান্তি রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেন। তবে সকলেই একমত যে, তালা খুলে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত বহন করে।

বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধাণ স্পষ্ট করে বলেন, তালা খুলে দেওয়া কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং স্থানীয় শান্তি বজায় রাখতে নেওয়া একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, তালা খুলে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এলাকার মানুষকে শান্তি ও সমঝোতার পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন।

অফিসের তালা খুলে দেওয়ার পর থেকে, আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন শাখার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে এখনও পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা তালা খুলে দেওয়ার পর অফিসে পুনরায় কাজ চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই ঘটনার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এমন কাজগুলো স্থানীয় স্তরে শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিরোধ কমাতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতারা এই ঘটনার মাধ্যমে তাদের শাখা অফিসের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন তুলতে পারেন।

সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ধারাবাহিকতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্যের ভিত্তিতে, পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক পরিবেশে এই ঘটনার প্রভাব কীভাবে বিকশিত হবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments