ম্যানচেস্টার শহরে জিউইশ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে একটি সন্ত্রাসী পরিকল্পনা গড়ে তোলার অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী ওয়ালিদ সাদাউই এবং ৫২ বছর বয়সী অমর হুসেইনকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ ও প্রেস্টন ক্রাউন কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি আইসিস-প্রেরিত হামলার জন্য অস্ত্র গোপনে যুক্তরাজ্যে আনার ব্যবস্থা করছিলেন।
কোর্টে উভয়কে যথাক্রমে ৩৭ ও ২৬ বছরের ন্যূনতম কারাদণ্ড আরোপ করা হয়। বিচারক মি. জাস্টিস ওয়াল তাদের পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হত, তবে তা যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হতে পারত, এ বিষয়ে জোর দিয়ে মন্তব্য করেন।
বিচারকের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পনায় তিনজনের সঙ্গে তারা এ কে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করে বিশাল জনসমাগমে গুলি চালানোর ইচ্ছা পোষণ করছিল। একবারে একশ বিশটি গুলি ছোড়া সম্ভব ছিল, রিলোডের প্রয়োজন না হয়ে, এবং অতিরিক্ত ম্যাগাজিনও প্রস্তুত রাখা ছিল। এতে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ নিহত হতো বলে অনুমান করা হয়।
সাদাউই, যিনি ওয়িগানের এব্রাম থেকে আসা, চারটি এ কে-৪৭ আক্রমণাত্মক রাইফেল, দুইটি হ্যান্ডগান এবং মোট ৯০০ রাউন্ড গুলি যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি এই অস্ত্রগুলোর জন্য প্রাথমিক অর্থ প্রদান করে ছিলেন এবং একই সময়ে একটি সমমনা চরমপন্থীর সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করছিলেন।
সাদাউই যে চরমপন্থীর সঙ্গে কাজ করছিলেন, তার নাম ফারুক, যিনি প্রকৃতপক্ষে গোপন অপারেটিভ ছিলেন। ফারুকের সঙ্গে কথোপকথনে সাদাউই জানিয়েছিলেন যে তিনি সুইডেনের মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম এবং পূর্ব ইউরোপ থেকেও অস্ত্র আনার কথা ভাবছিলেন।
অস্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি সাদাউই একটি এয়ার গন কিনে শুটিং রেঞ্জে গিয়ে গুলির প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। এই বিষয়গুলো তাকে সন্দেহের তালিকায় এনে দেয়, বিশেষ করে তার অনলাইন কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে।
কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট ৮ মে ২০২৪ তারিখে ২০০েরও বেশি কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বৃহৎ অপারেশন চালায়। সাদাউইকে বোল্টনের একটি হোটেল পার্কিং লটে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করা অস্ত্র সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকালে পাওয়া অস্ত্রগুলো সক্রিয় অবস্থায় ছিল না, তবে পরিকল্পনার গম্ভীরতা স্পষ্ট ছিল।
সাদাউইয়ের সন্দেহ বাড়ার প্রধান কারণ ছিল তার দশটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার, যেগুলো কোনো একটিই তার নিজের নামে ছিল না। এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে তিনি ইসলামী চরমপন্থী মতবাদ প্রচার করছিলেন, যা নিরাপত্তা সংস্থার নজরে আসে।
বিচারক মি. ওয়াল সাদাউইকে ন্যূনতম ৩৭ বছর এবং হুসেইনকে ন্যূনতম ২৬ বছর কারাদণ্ড দেন, এবং উভয়কে আজীবন কারাবাসের শর্তে দণ্ডিত করেন। উভয় অপরাধীর বিরুদ্ধে অস্ত্র পাচার, সন্ত্রাসী পরিকল্পনা এবং চরমপন্থী মতবাদের প্রচারসহ একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এই মামলায় আরও তদন্ত চলছে, বিশেষ করে সাদাউইয়ের অন্যান্য সহযোগীদের পরিচয় ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগের বিষয়ে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা ভবিষ্যতে কোনো সমজাতীয় পরিকল্পনা রোধে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হুমকি বাড়তে দেখা গেছে, এবং এই রকম পরিকল্পনা সমাজের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সংহতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জিউইশ সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সকল ধরনের হুমকি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে।



