টিউনিশিয়ার পরিচালক লেইলা বৌজিদের তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইন এ হুইসপার’ (ফরাসি শিরোনাম : À voix basse) বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটি টিউনিশিয়ার গে ও লেসবিয়ান সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হওয়া সামাজিক ও আইনি বাধা, এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিগত গল্পকে একত্রে তুলে ধরেছে।
কাহিনীর কেন্দ্রে আছে ৩০‑এর দশকের ইঞ্জিনিয়ার লিলিয়া, যিনি প্যারিসে বসবাসের পর টিউনিশিয়ার সুস শহরে তার গে চাচা ড্যালির শেষকৃত্য সম্পর্কে জানার জন্য ফিরে আসেন। ড্যালি বহু বছর গোপনে তার যৌন পরিচয় লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং অজানা পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করেন, যা লিলিয়াকে তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বাধ্য করে।
লিলিয়া তার ফরাসি গার্লফ্রেন্ড অ্যালিসকে সঙ্গে নিয়ে আসেন, তবে অ্যালিসকে শহরের কাছাকাছি একটি হোটেলে রাখেন যেন তাদের সম্পর্ক গোপন থাকে। লিলিয়ার পরিবারে গোপনীয়তা বজায় রাখার কারণ হল তার তীক্ষ্ণ স্বভাবের দাদী ও তার মা ওয়াহিদা, যাঁরা এখনও টিউনিশিয়ার রক্ষণশীল পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া যৌন পরিচয়কে গ্রহণ করতে পারেন না।
চিত্রনাট্যটি দু’টি সমান্তরাল ধারা অনুসরণ করে। প্রথমটি ড্যালির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত, যেখানে তার গোপন জীবন এবং টিউনিশিয়ার আইনি নিষেধাজ্ঞা কীভাবে তার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল তা প্রকাশ পায়। টিউনিশিয়ায় সমকামিতা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং শাস্তি কঠোর, যা গে-লেসবিয়ান সম্প্রদায়কে সর্বদা ভয় ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে রাখে।
দ্বিতীয় ধারা লিলিয়ার নিজের যৌন পরিচয়ের সঙ্গে সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। ফ্রান্সে তিনি স্বাধীনভাবে তার সম্পর্ক উপভোগ করতে পারেন, তবে টিউনিশিয়ার ঘরে ফিরে এসে তিনি পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বাধ্য হন। লিলিয়ার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং তার মায়ের (হিয়াম আব্বাস অভিনীত) অনিচ্ছা ছবির আবেগময় স্তরকে গভীর করে।
চিত্রের প্রধান চরিত্রে নতুন মুখ ইয়া বৌটেরা লিলিয়া হিসেবে, হিয়াম আব্বাস মা ওয়াহিদা হিসেবে, মারিয়ন বারবু অ্যালিস হিসেবে এবং ফেরিয়েল চামারি ড্যালি হিসেবে অভিনয় করেছেন। মোট সময়কাল প্রায় এক ঘণ্টা তেইশ মিনিট, যা গল্পের ধীরগতি ও সূক্ষ্ম বিবরণকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করে।
‘ইন এ হুইসপার’ টিউনিশিয়ার সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত মানবিক দিক উভয়ই তুলে ধরতে চায়, যেখানে গে-লেসবিয়ান ব্যক্তিরা প্রায়শই গোপনীয়তা বজায় রাখতে হয় এবং কখনো কখনো তাদের জীবনই ঝুঁকিতে পড়ে। চলচ্চিত্রটি গোপনীয়তা, পরিবারিক সম্পর্ক এবং আইনি দমনকে একসঙ্গে বুনে, দর্শকদের টিউনিশিয়ার গে-লেসবিয়ান সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলেছে।
বার্লিনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ টিউনিশিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পের বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসিকতাকে তুলে ধরেছে। যদিও ছবির শিরোনামটি নীরবতা ও গোপনীয়তার ইঙ্গিত দেয়, তবে তার বর্ণনা ও চরিত্রের বিকাশে স্পষ্টতা ও দৃঢ়তা দেখা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ‘ইন এ হুইসপার’ টিউনিশিয়ার গে-লেসবিয়ান সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হওয়া কঠিন বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত আত্ম-অন্বেষণের গল্পকে সংযতভাবে উপস্থাপন করেছে। চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে টিউনিশিয়ার সামাজিক কাঠামোর মধ্যে গোপনীয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার দ্বন্দ্বের প্রতি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে টিউনিশিয়ার কণ্ঠকে আরও শোনার সুযোগ দেয়।



