ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর চীন দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সফলতা তুলে ধরে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই দিনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও প্রশ্নের উত্তরে নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভোটের ফলাফল দেশের জনগণের ইচ্ছা স্পষ্ট করেছে। ফলে, বিএনপি যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জয় পেয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত হয়েছে। চীন সরকার নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করার প্রস্তুতি জোর দিয়ে বলেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে এবং বিজয়ী দলকে চীন অভিনন্দন জানাচ্ছে। তিনি যোগ করেন, চীন ঐতিহ্যবাহী বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে চলবে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামি (Jamaat-E-Islami) ৬৮টি আসনে প্রবেশ করেছে। বাকি আসনগুলোতে অন্যান্য ছোট জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। মোট ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন বিএনপি জিতেছে, যা তার সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানকে দৃঢ় করেছে।
বিএনপি জোটের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জনতান্ত্রিক পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ প্রত্যেকটি এক-একটি আসন পেয়েছে। জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে ন্যাশনাল পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি করে আসন অর্জন করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়লাভ করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন জিতেছে, যা তার রাজনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, দেশের সংসদে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জোট হল বিএনপি জোট, যার পর জামায়াত-এ-ইসলামি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো রয়েছে।
চীনের মন্তব্যের পটভূমিতে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন রয়েছে। চীন সরকার পূর্বে থেকেই বাংলাদেশকে তার বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেছে। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যমে চীন এই সহযোগিতাকে আরও গভীর করার পরিকল্পনা করছে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় চলমান প্রকল্পগুলোতে নতুন সরকার কীভাবে অংশ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে চীনের প্রকাশ্য মন্তব্যে এই ক্ষেত্রের সমন্বয় বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এছাড়া, উভয় দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বিএনপির স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠনে তাকে স্বতন্ত্র ক্ষমতা দেবে। তবে, জামায়াত-এ-ইসলামি ও অন্যান্য ছোট দলগুলোর উপস্থিতি সংসদে বৈচিত্র্য বজায় রাখবে এবং নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনের এই শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার ইচ্ছা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন পেতে হবে, যাতে দেশীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়।
পরবর্তী সময়ে নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, মন্ত্রিপরিষদ গঠন এবং নীতি অগ্রাধিকারের নির্ধারণের দিকে দৃষ্টি থাকবে। চীনসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুমুখী কূটনৈতিক নীতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সংক্ষেপে, চীন সরকার ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সফলতাকে স্বীকৃতি দিয়ে বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



