সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ভিক্রাম ভাট এবং তার স্ত্রী শ্বেতাঞ্জলি ভাটকে ৩০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি মামলায় ইন্টারিম বেইল প্রদান করে। রায়টি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্যা বাগচি সমন্বিত বেঞ্চের মাধ্যমে দেওয়া হয়। দম্পতি রা.হাই কোর্টের বেইল প্রত্যাখ্যানের পর সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে এই রায় পেয়েছেন।
বেঞ্চের গঠন উল্লেখযোগ্য, যেখানে সিইজে সুর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্যা বাগচি একসঙ্গে মামলাটি শোনেন। উভয় বিচারপতি মামলার আইনি দিক এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। এই রায়ের মাধ্যমে দম্পতির জেলখানা থেকে মুক্তি নিশ্চিত করা হয়, তবে শর্তসাপেক্ষে বেইল বন্ড জমা দিতে হবে।
মামলাটির মূল অভিযোগ হল, ভিক্রাম ভাট এবং শ্বেতাঞ্জলি ভাট চলচ্চিত্রের জন্য সংগ্রহ করা তহবিলকে অন্য কাজে ব্যবহার করেছেন। অভিযোগকারী ড. অজয় মুর্দিয়া, ইন্ডিরা গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত, যাঁর কোম্পানি ইন্ডিরা আইভিএফ এবং ইন্ডিরা এন্টারটেইনমেন্ট এলএলপি পরিচালনা করে। তিনি দাবি করেন যে, চলচ্চিত্রের উৎপাদন খরচের নামে সংগ্রহ করা অর্থ ৩০ কোটি টাকার বেশি পরিমাণে গন্তব্য বদলানো হয়েছে।
ভিক্রাম ভাট ও শ্বেতাঞ্জলি ভাটকে ডিসেম্বর ২০২৫-এ গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে জ্যুশিয়াল কারাস্টডিতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার পর থেকে তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে বেইল চেয়েছিলেন, তবে জানুয়ারি ৩১ তারিখে জোধপুর বেঞ্চের রা.হাই কোর্ট বেইল প্রত্যাখ্যান করে। এই প্রত্যাখ্যানের পর দম্পতি সুপ্রিম কোর্টে রিলিফের জন্য আবেদন করে।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় দম্পতির পক্ষে কাজ করা সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুকুল রোহতগি জোর দিয়ে বলেন যে, “একজন পরিচালক, তার স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেলে পাঠানো ন্যায়সঙ্গত নয়”। তিনি মামলার জটিলতা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বেইল প্রদান করার পক্ষে যুক্তি দেন।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার মামলাটিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং উল্লেখ করে যে, ৩০ কোটি টাকার বড়সড় জালিয়াতি ঘটেছে। সরকারী পক্ষে বলা হয় যে, আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের জন্য অপরাধমূলক আইনের ব্যবহার সহজ নয়।
বিচারপতি বাগচি শুনানির সময় উল্লেখ করেন যে, “অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য অপরাধমূলক মামলা ব্যবহার করা উচিত নয়”। তিনি আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং অপরাধের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় সঠিক আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।
সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত আদেশে দম্পতির ইন্টারিম বেইল অনুমোদন করা হয়, শর্ত থাকে যে তারা নির্ধারিত বেইল বন্ড জমা দেবেন। আদালত রাজস্থানের সরকারকে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং ইন্ডিরা এন্টারটেইনমেন্ট এলএলপি’র মালিককে প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্ত করার আদেশ দেয়, যাতে তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পারেন।
মামলাটি ১৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। সেই তারিখে উভয় পক্ষের জমা দেওয়া রিপোর্ট এবং সরকারী উত্তর বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। এই শোনানি মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
বিনোদন জগতের জন্য এই রায়ের প্রভাব বড়। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকদের আর্থিক সংগ্রহের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তাদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে, সুপ্রিম কোর্টের ইন্টারিম বেইল প্রদান দম্পতির জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে, তবে মামলার মূল বিষয় ও আর্থিক দায়িত্বের প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আদালতের চূড়ান্ত রায় কী হবে, তা শিল্পের নীতি ও আইনি কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে।



