পাবনা জেলায় আজ বিকেলে পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে যুক্ত বিএনপি কর্মী ও নেতা জেলাভাইস কমিশনারের অফিস এবং জেলা রিটার্নিং অফিসার (ডিআরও) এর ভবনকে অবরোধ করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানায়। দলীয় নেতারা ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করে, বিশেষ করে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীদের জয়কে অস্বীকার করে। অবরোধটি বিকেল ৪:৩০ টায় গেট বন্ধ করে শুরু হয় এবং এরপর থেকে ধারাবাহিক প্রতিবাদ চালু থাকে।
অবরোধকারী দলটি গেটের চারপাশে সুরক্ষা গার্ড ও স্বেচ্ছাসেবীকে ঘিরে রেখেছে, ফলে অফিসে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্মীরা অফিসের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে রাখার পাশাপাশি মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোনে দাবি পুনরাবৃত্তি করে। এই সময়ে স্থানীয় পুলিশ ও জেলাভাইস কমিশনারের নিরাপত্তা দল সতর্ক অবস্থায় থাকে, কোনো অশান্তি রোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়।
১৩ই জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, উভয় পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনেই জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীরা অল্প পার্থক্যে জয়লাভ করে, যা দুইজন বিশিষ্ট বিএনপি নেতার হারের বিপরীতে। ফলাফল ঘোষণার পরই বিএনপি কর্মীরা ফলাফলকে অবৈধ বলে দাবি করে এবং পুনর্গণনা না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্বীকার করবে না বলে ঘোষণা করে।
প্রতিবাদ চলাকালে কর্মীরা একাধিক স্লোগান গেয়ে, ফলাফলকে বয়কট করার ইঙ্গিত দেয়। “দ্বৈত ভোট, একবারই গণনা” ও “সত্যিকারের গণনা দরকার” ইত্যাদি স্লোগান শোনা যায়। প্রতিবাদে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়ে এবং তারা ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত গার্ড মোতায়েন করে।
বিএনপি পাবনা-৩ প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের মূল এজেন্ট আহমেদ মোস্তফা নোমান বলেন, কিছু ভোট কেন্দ্রের গণনা প্রক্রিয়ায় তাদের এজেন্টদের স্বাক্ষর বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “কয়েকটি কেন্দ্রে ফলাফল স্বাক্ষর ছাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, ফলে আমরা এই ফলাফলকে বয়কট করছি।” এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে দলটি পুনর্গণনা দাবি করে।
ইশ্বরদী উপজেলায় টিলাকপুর এলাকার ভোটার মো. ফিরোজও একই রকম অভিযোগ তুলে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের লোকজন ভোট গড়িয়ে ফলাফল পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয়েছে, তাই আমরা পুনর্গণনা চাই।” তার বক্তব্যে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পায়।
চাটমোহর উপজেলায় বাসিন্দা আমিরুল ইসলামও ফলাফলকে বিকৃত বলে উল্লেখ করে পুনর্গণনা দাবি করেন। তিনি বলেন, “ফলাফল গড়িয়ে নেওয়া হয়েছে, তাই আমরা সঠিক গণনা চাই।” তার মন্তব্যে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে একই রকম অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা যায়।
অবস্থানটি তীব্র উত্তেজনায় পরিণত হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়ে। পুলিশ ও জেলাভাইস কমিশনারের দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে, কোনো হিংসাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা রোধে অতিরিক্ত গার্ড মোতায়েন করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক সংঘর্ষের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
বিএনপি দল পুনর্গণনা না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্বীকার না করার অবস্থান বজায় রাখবে বলে জানায়। এই দাবির ফলে নির্বাচনী ফলাফলের আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়ছে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে আদালতে আবেদন দায়েরের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। পুনর্গণনা প্রক্রিয়া না হলে উভয় আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
অবশেষে, জেলাভাইস কমিশনারের অফিসে অবরোধ অব্যাহত থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় প্রয়োজন। উভয় পক্ষের দাবি বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান না হলে রাজনৈতিক অশান্তি দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনগণের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করবে।



