কানাডা সকার ফেডারেশন এবং তার বেসরকারি বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডিয়ান সকার বিজনেস (CSB) ২০২৪ সালের শুরুর দিকে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি ১১ বছর পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০৩৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর হবে এবং উভয় পক্ষকে অতিরিক্ত পাঁচ বছরের সম্প্রসারণের বিকল্প দেয়। নতুন চুক্তি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময়ে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের ফুটবল পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলবে।
এই চুক্তি মূলত স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে CSB ফেডারেশনের জন্য বাণিজ্যিক আয় এবং টেলিভিশন সম্প্রচার অধিকার পরিচালনা করবে। উভয় পক্ষই পূর্বের চুক্তির তুলনায় উন্নত শর্তে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে আয় ভাগাভাগির নতুন মডেল এবং টেলিভিশন কভারেজের বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে।
পূর্বের দশ বছরের চুক্তি বহু বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। ২০২২ সালে পুরুষ জাতীয় দল প্যানামার বিরুদ্ধে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তারা বিশ্বকাপের পুরস্কার অর্থের বড় অংশ, ভ্রমণ সুবিধা এবং পুরুষ-নারী দল সমান ম্যাচ ফি চেয়েছিল। একই সময়ে, খেলোয়াড়দের সমিতি কানাডিয়ান সকার প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (CSPA) ফেডারেশনের বোর্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে ৪০ মিলিয়ন ডলারের মামলা দায়ের করে, যা মূল চুক্তির আর্থিক শর্তের প্রতি অসন্তোষের প্রকাশ ছিল।
২০২৩ সালে পার্লামেন্টারি অনুসন্ধান কমিটিতে CSB চুক্তির আর্থিক স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলা হয়। তদন্তে প্রকাশ পায় যে ফেডারেশন প্রতি বছর মাত্র প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার চুক্তি থেকে পেয়েছে, যা জাতীয় দলগুলোর প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ এবং অন্যান্য খরচ মেটাতে যথেষ্ট নয়। এই কম আয়ই দলগুলোর তহবিল সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
পুরুষ জাতীয় দলের বয়কটের পাশাপাশি, নারী জাতীয় দলও একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। টোকিও অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জয় করার পর ২০২৩ সালের শিবেলিভস কাপের প্রস্তুতির জন্য মাত্র ২০ জন খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করে। নারীরা প্রাথমিকভাবে ধর্মঘটের হুমকি জানিয়ে থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে।
পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী, কানাডা সকার বিশ্বকাপের বছরটি প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন ডলার আয় পেত। নতুন চুক্তিতে এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আয় ভাগাভাগির একটি নতুন কাঠামো প্রয়োগ করা হয়েছে, যাতে উভয় লিঙ্গের দল সমানভাবে উপকৃত হয়। যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, সূত্রগুলো নির্দেশ করে যে নতুন মডেল ফেডারেশনের আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে।
নতুন সম্প্রচার চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যে কানাডা ও তার সময় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত সব আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে। এছাড়া পুরুষ ও নারী জাতীয় দলের ম্যাচের প্রচার ও কভারেজে সমতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা পূর্বের অপ্রতুল কভারেজের সমালোচনাকে দূর করার লক্ষ্য।
এই চুক্তি সম্পর্কে খেলোয়াড় সমিতি কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে, কারণ আয় ভাগাভাগির নতুন মডেল এবং সমান সম্প্রচার সুযোগ তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সহায়তা করবে। তবে তারা এখনও ফেডারেশনের স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ তহবিল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে।
কানাডা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং এই নতুন চুক্তি দেশের ফুটবলের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহের লক্ষ্য রাখে। উভয় লিঙ্গের দলকে সমানভাবে সমর্থন করার নীতি ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়কে উচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেবে।



