বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শাকিল জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে ফিরে এসে দেশের আর্থিক, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারী অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি থাকুরগাঁও-১ থেকে নির্বাচনে জয়লাভের পর ঢাকায় পৌঁছান।
ফখরুলের মতে, “আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতিকে সচল রাখা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা”। তিনি এই চারটি দিককে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টি ফল ঘোষণার পর বিএনপি ২০৯ আসনে বিজয়ী হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে দলের সভাপতি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে। ফখরুল নিজে থাকুরগাঁও-১ থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন।
বিমানবন্দরে তার স্বাগত জানায় বিএনপি মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান। স্বাগত অনুষ্ঠানের সময় ফখরুল ফলাফল নিয়ে দ্বৈত অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ফলাফল একদিকে আনন্দময়, অন্যদিকে বিষাদময়, কারণ আমাদের দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এই ঐতিহাসিক বিজয় দেখার সুযোগ পাননি।”
ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, “শত শত হাজার রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে একটি স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিভূত ও মুগ্ধ।” তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে গণতন্ত্রের সুরক্ষা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
প্রশ্নে তিনি আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করেন। ফখরুল জানান, “আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে ফখরুল তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে দেন। এই অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমদ এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
ফখরুলের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলোকে সংক্ষেপে বলা যায়: অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তিনি জোর দেন, এই চারটি ক্ষেত্রের সুষ্ঠু পরিচালনা না হলে সরকারী কর্মসূচি ব্যাহত হতে পারে।
বিএনপি দলটি এখন নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় অগ্রসর। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কীভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করবে তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নীতি, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি মোকাবেলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা গৃহীত হলে তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নীতি নির্ধারণে ফখরুলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। তিনি দলের উচ্চপদস্থ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শেষে ফখরুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নতুন সরকারকে দেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তৎপর হতে হবে, যাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয় এবং দেশের উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়।



