মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর থেকে USS Gerald R. Ford রণতরীকে পারস্য উপসাগরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রণতরীর ক্রু ও নৌসেনাদের নতুন গন্তব্য সম্পর্কে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
নতুন গন্তব্যে পৌঁছানোর পর জেরাল্ড আর. ফোর্ড, আব্রাহাম লিনকন রণতরীর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপে যুক্ত হবে। স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে সমন্বয় করে রণতরীটি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত নৌবাহিনীর অংশ হিসেবে কাজ করবে। ক্রুদের জানানো হয়েছে যে, তারা এখন থেকে পারস্য উপসাগরে স্থায়ী মিশনে থাকবে।
USS Gerald R. Ford রণতরীটি গত বছর জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর থেকে রওনা হয় এবং অক্টোবরের শেষের দিকে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থান নেয়। এই রণতরীটি তার প্রথম ক্যারিবীয় মিশন সম্পন্ন করার পরই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রণতরীর দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা এবং রুট পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর লজিস্টিক্স ক্ষমতা প্রদর্শন করে।
রণতরীটি ৩ জানুয়ারি কারাকাসে ঘটিত হামলায় সরাসরি যুক্ত ছিল বলে রেকর্ডে উল্লেখ আছে। ওই ঘটনার পর রণতরীর অস্ত্র ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। এই সংযোগটি রণতরীর বহুমুখী অপারেশনাল সক্ষমতা তুলে ধরেছে।
প্রাথমিকভাবে রণতরীর মিশন সময়সীমা একবার বাড়ানো হয়েছিল, তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ক্রুদের বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা আরও দেরি হয়েছে। পূর্বে মার্চের শুরুতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল, তবে এখন এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের আগে ফিরে যাওয়া সম্ভব না বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন রণতরীর রক্ষণাবেক্ষণ সময়সূচিকেও প্রভাবিত করবে।
রক্ষণাবেক্ষণ কাজের বিলম্বের ফলে রণতরীর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত আপডেট ও সিস্টেম চেকিং স্থগিত হতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ছিল রণতরীর পরবর্তী অপারেশনাল প্রস্তুতি নিশ্চিত করার জন্য, তবে এখন তা পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নৌবাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতিতে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রণতরীর স্থানান্তর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। পারস্য উপসাগরে রণতরীর উপস্থিতি অঞ্চলীয় শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
একজন সামরিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “জেরাল্ড আর. ফোর্ডের পারস্য উপসাগরে যোগদান অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং সম্ভাব্য সংকটের মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়াবে।” এই মন্তব্যটি রণতরীর কৌশলগত গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রণতরীটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে এবং আব্রাহাম লিনকন রণতরীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপারেশনাল রুট নির্ধারণ করবে। রণতরীর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পুনঃনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হওয়ার পরই রণতরীটি পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে আসবে। এই সব তথ্যের ভিত্তিতে, রণতরীর নতুন মিশনটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



