গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা অধীনে ভোগড়া কেনাকাটা গলি এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতের অর্ধরাতের সময় বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে ৬০টি বসতবাড়ি ধ্বংস করে, ফলে ভুক্তভোগীরা অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি দাবি করছেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রায় রাত ৯টার দিকে গলি এলাকার একটি বাড়িতে অস্বাভাবিক ধোঁয়া ও শিখা দেখা যায়। স্থানীয় আবুল হাসেমের মালিকানাধীন বাড়িতে প্রথমে অগ্নি সৃষ্টির চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়, যা তৎক্ষণাৎ আশেপাশের বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বসতবাড়ির শিখা দ্রুত বাড়ির কাঠামোর মধ্যে প্রবেশ করে, ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শীঘ্রই পাশের আশরাফুল সরকারের বাড়িতে অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে, দুইটি বাড়ি একসাথে পুড়ে যায়।
অবস্থা জানার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ফায়ার স্টেশনকে কল করা হয়। ভোগড়া মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে, তৎক্ষণাৎ অগ্নি নেভাতে কাজ শুরু করে।
ফায়ারফাইটাররা প্রায় চল্লিশ মিনিটের কঠোর প্রচেষ্টার পরই শিখা নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এবং বাড়িগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা কারণে বেশ কিছু ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, প্রাথমিক তদন্তে অগ্নির মূল কারণ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবনের পুরনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত লোডের সম্ভাবনা এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
বৈদ্যুতিক ত্রুটির পাশাপাশি বাড়িগুলোর ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ ও অপ্রতুল অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অগ্নিকাণ্ডকে দ্রুত বিস্তৃত করতে ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে পুড়িয়ে যাওয়া বাড়িগুলোতে ফ্রিজ, খাট, আলমারি এবং অন্যান্য গৃহস্থালির সামগ্রী সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেন, তাদের সম্পূর্ণ গৃহস্থালির জিনিসপত্র হারিয়ে গিয়ে আর্থিক ক্ষতি অর্ধ কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই দল ভবনের ক্ষতি মূল্যায়ন করে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করবে।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই গাজীপুর থানা একটি FIR দায়ের করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালু রয়েছে। পুলিশ তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, সম্ভাব্য অবহেলা এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘনসহ সব দিক বিশ্লেষণ করবে।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. হিরণ মিয়া জানান, তদন্তের ফলাফল ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক সিস্টেমের নিয়মিত পরিদর্শন ও গৃহনির্মাণে নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার পায় এবং একই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
অবশেষে, গাজীপুরের বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে; বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত লোড না করা, নিয়মিত সুরক্ষা পরীক্ষা করা এবং অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।



