লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৯তম সংস্করণে ৫ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৫তম ‘ফার্স্ট লুক’ প্রোগ্রাম, এই বছর উরুগুয়ের উপর আলোকপাত করবে। এই উদ্যোগটি লোকার্নো প্রো ইন্ডাস্ট্রি প্রোগ্রামের অংশ, যা আন্তর্জাতিক আর্টহাউস প্রকল্পের পোস্ট‑প্রোডাকশন পর্যায়ে সহায়তা করে। প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হল নির্মাতাদের আর্থিক, বিক্রয় এবং উৎসবের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের সঙ্গে যুক্ত করা।
‘ফার্স্ট লুক’ একটি পোস্ট‑প্রোডাকশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিশ্বব্যাপী আর্টহাউস চলচ্চিত্রের নির্মাতা, প্রযোজক এবং বিতরণকারী একত্রিত হন। এই পর্যায়ে প্রকল্পগুলোকে তহবিল সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক বিক্রয় চুক্তি এবং উৎসবের প্রোগ্রামিং নিশ্চিত করার জন্য দরকারি সংযোগ সরবরাহ করা হয়।
উরুগুয়েকে ২০২৬ সালের ফোকাস হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের চলচ্চিত্রগুলো আন্তর্জাতিক উৎসবে দৃশ্যমানতা অর্জন করেছে এবং লোকার্নোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ছে। এই প্রবণতা উরুগুয়ের চলচ্চিত্র শিল্পের গ্লোবাল উপস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েকটি লোকার্নো ফেস্টিভ্যালে উরুগুয়ীয় চলচ্চিত্র ও কো‑প্রোডাকশনগুলো বিভিন্ন বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালে এয়ারুকো হার্নান্দেজের ‘দ্য এনেমিজ অফ পেইন (Los enemigos del dolor)’ এবং ২০১০ সালে ড্যানিয়েল হেন্ডলারের ‘নরবের্তো’স ডেডলাইন (Norberto apenas tarde)’ উভয়ই দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। এছাড়া, আনা গ্যেভারা ও লেটিসিয়া জর্জের ‘দ্য গেস্ট রুম (El cuarto del fondo)’ (২০০৭) এবং মানোলো নিয়েতোর ‘এল লুগার দেল হিজো (2008)’ উরুগুয়ীয় সৃজনশীলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও উরুগুয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিল কন্ডনের ‘কিস অফ দ্য স্পাইডার ওম্যান’ (২০২৫) এবং ফেলিপে হিরশের ‘সেভেরিনা’ (২০১৭) উভয়ই উরুগুয়ীয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই ধরনের কো‑প্রোডাকশনগুলো উভয় দেশের শিল্পী ও বাজারকে সংযুক্ত করে।
ফেস্টিভ্যালের শিল্প পরিচালক গিওনা এ. নাজারো উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সময়ে নতুন কণ্ঠস্বরের প্রয়োজনীয়তা তীব্র, এবং উরুগুয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা মানে দৃষ্টিকোণকে আরও বিস্তৃত করা। তিনি যুক্তি দেন, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য।
‘ফার্স্ট লুক’ এই বছর ছয়টি পোস্ট‑প্রোডাকশন প্রকল্পকে বিচারকমণ্ডলীর সামনে উপস্থাপন করবে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত জুরি এই চলচ্চিত্রগুলোকে মূল্যায়ন করে, সৃজনশীলতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে টেকসই শিল্প মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।
লোকার্নো প্রো পরিচালক মার্কাস ডাফনার উল্লেখ করেন, উরুগুয়ের ওপর আলোকপাত করা তাদের মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা উৎকৃষ্ট চলচ্চিত্রের শেষ পর্যায়ে সহায়তা এবং উদীয়মান নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি শিল্পের ভবিষ্যৎকে সমর্থন করার মূল স্তম্ভ।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সংস্থা ACAU-র সভাপতি গিসেলা পেভিতালি উরুগুয়ের চলচ্চিত্র শিল্পের উত্থানকে স্বাগত জানিয়ে, এই ফোকাসের মাধ্যমে দেশের সৃজনশীলতা বিশ্ব মঞ্চে আরও দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
লোকার্নো ফেস্টিভ্যালের সময়কালে ‘ফার্স্ট লুক’ উরুগুয়ের পোস্ট‑প্রোডাকশন প্রকল্পগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচয় করিয়ে দেবে এবং সম্ভাব্য বিতরণ চুক্তি, ফিন্যান্সিং সুযোগ এবং উৎসবের প্রোগ্রামিং নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করবে।
উরুগুয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই সুযোগকে ব্যবহার করে তাদের কাজকে গ্লোবাল দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে, যা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। লোকার্নো ফেস্টিভ্যালের এই উদ্যোগটি উরুগুয়ের সৃজনশীল সম্ভাবনা ও শিল্পের টেকসই বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



