মার্কো রুবিও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে প্রধান বক্তৃতা দিতে ইউরোপে পৌঁছেছেন। তিনি বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের মুখে রয়েছে এবং ভূ‑রাজনৈতিক কাঠামো নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন। রুবিওয়ের এই বক্তব্য কনফারেন্সের মূল থিমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।
রুবিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখল করার প্রতিশ্রুতির পর প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক সমাবেশ। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি বলে রুবিও জোর দিয়েছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোণ ইউরোপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বতন্ত্র নীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কের গুরুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। উভয়ই রুবিওর ‘নতুন যুগ’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
কনফারেন্সের আলোচ্যসূচিতে ইউক্রেনের যুদ্ধ, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা এবং ইরান‑মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংলাপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
রুবিও মিডিয়ার প্রশ্নে বলেছিলেন, “বিশ্ব আমাদের সামনে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরা এখন একটি নতুন ভূ‑রাজনৈতিক যুগে বাস করছি, যা আমাদের ভূমিকা ও কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করবে।” এই মন্তব্য কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য সতর্কতা ও দিকনির্দেশনা উভয়ই নির্দেশ করে।
গত বছরের কনফারেন্সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ইউরোপের মুক্ত বাক ও অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। তার বক্তৃতা ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কের উত্তেজনা এক বছর ধরে বাড়িয়ে তুলেছিল।
প্রায় পঞ্চাশটি বিশ্বনেতা কনফারেন্সে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা, ন্যাটোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন। এই সমাবেশের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোতে অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে, রাশিয়া ও চীনের জাহাজগুলো দ্বীপে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন দাবি করেছেন। তবে এই দাবির কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন রুবিওয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকের সময় গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি রুবিওকে ন্যাটোর মিত্র হিসেবে ডেনমার্কের স্বার্থ রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনেক ইউরোপীয় নেতা রুবিও ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসের ফাটল হিসেবে দেখছেন। তারা এটিকে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে।
কনফারেন্সে আটজন প্রাক্তন মার্কিন দূতও অংশ নেবেন, যারা ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। তাদের উপস্থিতি আলোচনায় অতিরিক্ত দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।
মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের পরবর্তী সেশনগুলোতে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, ন্যাটোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ইরান‑মার্কিন পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমাবেশের ফলাফল ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



