26 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ৪৭তম ইসলামি বিপ্লবের সমাবেশে শত্রুদের হুঁশিয়ারি দিলেন

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ৪৭তম ইসলামি বিপ্লবের সমাবেশে শত্রুদের হুঁশিয়ারি দিলেন

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ৪৭তম ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশাল জাতীয় সমাবেশে শত্রুদের প্রতি সতর্কবার্তা জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উপস্থিতি জানিয়েছেন। টেলিভিশনে সরাসরি ভাষণ দিয়ে তিনি ইরানিরা কীভাবে ঐতিহাসিক মাত্রার অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় গর্বের নতুন স্তরে পৌঁছেছে তা তুলে ধরেছেন। সমাবেশটি দেশের ১৪টি শহর ও গ্রাম জুড়ে বৃষ্টি ও তুষারপাতের মাঝেও লক্ষ লক্ষ নাগরিকের সমবেত হওয়ায় নজর কেড়েছে।

সমাবেশে উপস্থিত ইরানিরা স্বেচ্ছায় রাস্তায় নেমে দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও শক্তি রক্ষার সংকল্প প্রকাশ করেছে। অংশগ্রহণকারীরা একত্রে স্লোগান শোনিয়ে জাতীয় পরিচয় ও চরিত্রের দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ইরানকে এক ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই বৃহৎ জনসমাবেশকে ইরান সরকার “জাতীয় শক্তি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতীক” বলে বর্ণনা করেছে।

খামেনি টেলিভিশন ভাষণে উল্লেখ করেছেন, এই সমাবেশের উপস্থিতি পূর্বে কখনও দেখা যায়নি এবং ইরানের শত্রুরা এই দৃশ্য দেখে চরম হতাশা অনুভব করেছে। তিনি বলেন, যারা ইরানের আত্মসমর্পণের প্রত্যাশা করছিল, তাদের পরিকল্পনা এখন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। শত্রুদের এই প্রত্যাশা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে ইরানিরা তাদের সমর্থনকে কখনোই কমিয়ে দেখাবে না।

নেতা আরও উল্লেখ করেন, এই সমাবেশের মাধ্যমে ইরানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে “অনন্য সম্মানের আসন”ে বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানিরা এক মহান কাজ সম্পন্ন করেছে, যা দেশের গৌরব বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সমালোচকদের মুখে নীরবতা এনেছে। এই অর্জনকে তিনি ইরান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

খামেনি সমাবেশকে ইরানের জাতীয় শক্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে সকল নাগরিককে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাস্তায় একত্রিত স্লোগানকে ইরানির প্রকৃত পরিচয় ও চরিত্রের দৃঢ়তা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা বিশ্ববাসীর সামনে ইরানের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ প্রকাশনা ইরান সরকারকে ভবিষ্যতে কোনো অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবেলায় শক্তিশালী ভিত্তি দেবে বলে তিনি আশাবাদী।

সমাবেশের সময় ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধ এবং তার পরের তীব্র অর্থনৈতিক ও মিডিয়া যুদ্ধ ইরানকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছিল। তবুও এই সমাবেশের মাধ্যমে ইরান সরকার দেখিয়েছে যে জাতীয় ঐক্য ও দৃঢ়তা বজায় রয়েছে।

জানুয়ারি মাসে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও তকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নাগরিকরা রাস্তায় নেমে দেশের স্বার্থ রক্ষার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ঘটনাগুলি ইরান সরকারের নিরাপত্তা নীতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

আবহাওয়া কঠিন হলেও, তেহরানসহ ১৪শ’টিরও বেশি শহর ও গ্রাম থেকে মানুষ বৃষ্টি ও তুষারপাত উপেক্ষা করে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে। এই বৃহৎ উপস্থিতি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ইরান সরকার এই অংশগ্রহণকে জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শত্রুদের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইরানের এই ঐক্যবদ্ধ প্রকাশনা তাদের কৌশলগত পরিকল্পনাকে ব্যাহত করেছে। ইরান সরকারকে দুর্বল করে তোলার জন্য গৃহীত বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত্রুদের প্রত্যাশিত আত্মসমর্পণ এখন বাস্তবতা থেকে দূরে, যা ইরান সরকারের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই সমাবেশের প্রভাব ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে স্পষ্ট হবে। জাতীয় ঐক্য ও সমর্থনের দৃঢ়তা ইরান সরকারকে অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে আরও দৃঢ় অবস্থানে রাখবে। পাশাপাশি, শত্রুদের হুঁশিয়ারি ইরানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। ইরান সরকার এই মুহূর্তকে ব্যবহার করে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments