নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরনগরদী গ্রামে নিজের বাড়িতে বসে ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে স্বাধীনভাবে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মঈন খান, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ফলাফল দেশের মানুষের বিএনপির প্রতি ভালোবাসা ও আস্থার প্রমাণ।
মঈন খান উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, যার মধ্যে জরিপের ফলাফল এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে তাদের ভূমিকা অপরিবর্তনীয়।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে কতকিছু বলা হয়েছিল। অনেক জরিপ হয়েছে, কত গল্পগুজব সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু দেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।” এই বক্তব্যে তিনি ভোটারদের স্বতন্ত্র বিচারক্ষমতাকে প্রশংসা করেছেন।
মঈন খান আরও উল্লেখ করেন, “দেশে যতবার রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, প্রত্যেকবার দেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তার পরিণতি তুলে ধরে বর্তমান ভোটের গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন।
তারপর তিনি একটি বিস্তৃত তুলনা করেন, “আমরা রাজনৈতিকরা যখন ভুল করেছি, অর্থনীতিবিদরা যখন ভুল করেছি, আমাদের বুদ্ধিজীবীরা যখন ভুল করেছে, শিক্ষক সমাজ যখন ভুল করেছে, এলিট শ্রেণি যখন ভুল করেছে, তখন বাংলাদেশের আপামর মানুষ ভুল করেনি।” এই মন্তব্যে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের বিচক্ষণতা ও ন্যায়বোধকে তুলে ধরেছেন।
নরসিংদী-২ আসনে মঈন খান স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে জয়লাভ করেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তার জয় মূলত গ্রামীন ভোটারদের সমর্থন ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে ছিল বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
বিএনপির বিরোধী দল, প্রধানত আওয়ামী লীগ, থেকে এই বিষয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের পর কিছু স্থানীয় নেতারা ফলাফলকে স্বীকার করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, মঈন খানের জয় বিএনপির আঞ্চলিক শক্তি বাড়াবে এবং পার্টির জাতীয় পর্যায়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে। তিনি আগামী সপ্তাহে পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা করছেন।
সারসংক্ষেপে, আব্দুল মঈন খান তার নির্বাচনী জয়কে দেশের মানুষের বিএনপির প্রতি আস্থা ও সমর্থনের সূচক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।



