টেক্সাসের ৪২ বছর বয়সী জ্যাকব ট্রিগ, প্রযুক্তি খাতের প্রকল্প ব্যবস্থাপক, সম্প্রতি চাকরি হারিয়ে গেছেন। তিনি আশা করছিলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন পদ পাবেন, তবে দুই হাজারেরও বেশি আবেদন জমা দেওয়ার পরও এখনো স্থায়ী কাজ পাননি। তার বর্তমান আয় প্যাকেজ ডেলিভারি ও ল্যান্ডস্কেপিং কাজ থেকে আসে, যা তার পূর্বের বেতনকে তুলনামূলকভাবে কমিয়ে দেয়।
ট্রিগের বেকারত্বের সময়কাল ছয় মাসের বেশি হতে পারে, যা তার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তিনি টেক্সাসে বসবাস করেন এবং আগে কখনো দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্বের মুখোমুখি হননি। তার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে দেখা দিচ্ছে বিস্তৃত স্থবিরতার একটি সূচক।
সম্প্রতি প্রকাশিত শ্রমবাজারের তথ্য দেখায় যে চাকরির খালি পদের সংখ্যা এবং নিয়োগের হার বহু বছরের নীচে নেমে এসেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি মাসে মাত্র ১৫,০০০টি নতুন চাকরি যোগ হয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে খুবই কম বলে বিবেচিত। এই ধীরগতি চাকরির বাজারের তীব্র শীতলতা নির্দেশ করে।
বেকারত্বের হার প্রায় ৪.৩% স্থিতিশীল থাকলেও, বড় বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য ছাঁটাই হয়েছে। আমাজন এবং UPS সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা সীমিত রয়ে গেছে, যা অর্থনীতির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশীয় উৎপাদন (GDP) গত বছরের শেষের দিকে বার্ষিক ৪.৪% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির এই উচ্চ হার এবং চাকরির বাজারের স্থবিরতার সমন্বয় বেশ অস্বাভাবিক এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্সের সিনিয়র ফেলো জেড কল্কো উল্লেখ করেছেন যে, গত ২৫ বছরে এমন কোনো সময় দেখা যায়নি যখন অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং চাকরির বাজারের এই ধরনের বৈপরীত্য একসঙ্গে উপস্থিত থাকে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের কোনো পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন।
ট্রিগ এখনো আশাবাদী না হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করছেন। তিনি ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা অনিশ্চিত হলেও, এই অস্থিরতা অতিক্রমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শ্রমবাজারের পরিবর্তনের একটি মাইক্রো দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
অক্টোবর মাসে গোল্ডম্যান স্যাক্স একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ‘নির্বন্ধনবৃদ্ধি’ পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বিশ্লেষণটি নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এর দ্রুত গ্রহণকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা কোম্পানিগুলোকে কম কর্মী দিয়ে বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম করবে।
এই সম্ভাব্য প্রবণতা নিয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, AI এবং স্বয়ংক্রিয়করণের বিস্তৃত ব্যবহার শ্রমবাজারে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্বের হার বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে নীতি নির্ধারকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন কৌশল গড়ে তোলা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও, চাকরির বাজারে গভীর স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। জ্যাকব ট্রিগের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং গ্লোবাল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস একত্রে ইঙ্গিত করে যে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে ‘নির্বন্ধনবৃদ্ধি’ একটি বাস্তব ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রম নীতি ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোর পুনর্গঠন অপরিহার্য।



