26 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছে

বিশ্বের স্বর্ণের দাম শুক্রবার সকালবেলা পুনরায় উর্ধ্বমুখী হয়ে $4,982.59 প্রতি আউন্সে পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহের ধারাবাহিক পতনের পরের প্রথম বৃদ্ধি। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ত্বরিত লেনদেনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

স্পট গোল্ডের মূল্যে ১.৩ শতাংশের তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে, ফলে প্রতি আউন্সের মূল্য $4,982.59 এ স্থিত হয়েছে। এই রেকর্ডমূল্যটি পূর্বের সপ্তাহের নিম্ন স্তর থেকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করেছে এবং বাজারে তাত্ক্ষণিক চাহিদা বাড়িয়েছে।

সপ্তাহের মোট পরিবর্তন হিসাব করলে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ধাতুর মূল্যায়নে ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করে। এই সূচকটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে যখন অন্যান্য সম্পদ শ্রেণি অস্থিরতা দেখাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত তথ্যের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নিচ্ছেন। এই প্রবণতা মূলত মুদ্রা বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার নীতি নিয়ে গৃহীত সতর্কতার ফলাফল।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, এপ্রিল মাসে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার্সও ১.১ শতাংশ বাড়ে এবং $5,001.80 প্রতি আউন্সে লেনদেন হচ্ছে। ভবিষ্যৎ চুক্তিতে এই উত্থানটি স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্যের পর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে মুদ্রা থেকে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ছে, কারণ সুদের হার হ্রাস না হলে মুদ্রা রিটার্ন কমে যায়।

বিনিয়োগকারীরা এখন মুদ্রা তুলনায় স্বর্ণকে অধিক লাভজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা বৈশ্বিক পুঁজি প্রবাহে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করছে। এই পরিবর্তনটি স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে মূল্যের উত্থানকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

আসন্ন মুদ্রাস্ফীতি তথ্যের ফলাফল স্বর্ণের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, যদি মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে, কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়।

স্বর্ণের এই উত্থান আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে, যা আর্থিক অস্থিরতার সময়ে ধাতুর ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেলে, অন্যান্য সম্পদ শ্রেণির তুলনায় তার চাহিদা আরও দৃঢ় হবে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের এই উত্থান দেশীয় বাজারেও প্রভাব ফেলবে। গয়না ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা এই পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয় গয়না বিক্রেতারা উল্লেখ করছেন, স্বর্ণের দামের দ্রুত পরিবর্তন তাদের মুনাফা মার্জিনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং গ্রাহকদের ক্রয় সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, সাধারণ ভোক্তাদের জন্য স্বর্ণের গয়না কেনা এখন আর্থিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সার্বিকভাবে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে, এবং এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনই নির্ধারণ করা কঠিন। তবে, স্বর্ণের দাম উর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সতর্কতা ও সুযোগ উভয়ই অনুসন্ধান করছেন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শীঘ্রই নতুন স্বর্ণের মূল্য তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় বাজারে মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে পুনরায় সাজাতে পারে। এই পরিবর্তনটি গয়না শিল্প ও শেষ ব্যবহারকারী উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments