১৩ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ভোটার অংশগ্রহণের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ জানায়। নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল হয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছে।
ইলেকশন কমিশনের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের হার পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে, ফলাফলে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনে জয়লাভ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) একটি পোস্টে এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন, তাতে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি পোস্টে লিখেছেন, “আমাদের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।” এছাড়া তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে এবং তার দলের অন্যান্য সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তায় তিনি বাংলাদেশের বিশাল জয়ের জন্য তারেক ভাইকে, তার দলকে এবং অন্যান্য দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সবাইকে সুস্থ ও সুখী থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি‑২৯৮, রাঙ্গামাটি‑২৯৯ এবং বান্দরবান‑৩০০ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভের মাধ্যমে নির্বাচনী মানচিত্রে নতুন রঙ যোগ করেছে। খাগড়াছড়ি‑২৯৮ আসনে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, রাঙ্গামাটি‑২৯৯ আসনে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এবং বান্দরবান‑৩০০ আসনে সাচিং প্রু জেরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এই তিনটি আসনের গণভোটে “না” ভোটের সংখ্যাই বেশি হওয়ায় রেফারেন্ডামেও “না” পক্ষে ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। খাগড়াছড়ি‑২৯৮ আসনে “হ্যাঁ” ভোটে ১,৪৪,৩৫৫টি এবং “না” ভোটে ১,৫৫,৯৪২টি ভোট গৃহীত হয়েছে। রাঙ্গামাটি‑২৯৯ আসনে “হ্যাঁ” ভোটে ৭১,৬৯৯টি, “না” ভোটে ১,৭৯,৮০৫টি ভোট রেকর্ড হয়েছে। বান্দরবান‑৩০০ আসনে “হ্যাঁ” ভোটে ৭১,৪১৭টি এবং “না” ভোটে ৯০,১৫৬টি ভোট পাওয়া গেছে।
চীন সরকারের ঢাকা দূতাবাসের ফেসবুক পেজে একই দিনে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও সফল পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে এবং নেতৃত্ব প্রদানকারী বিএনপিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফল দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করেছে।
চীন সরকার এছাড়াও নতুন সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে উত্সাহ জাগিয়ে তুলেছে। তারা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবিক প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে।
এই আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে, বিশেষত যখন বিএনপি রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনী জয়কে ভিত্তি করে তার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি কতটা প্রভাবশালী হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জয় তার পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করেছে।
অবশ্যই, নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচনের ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে পার্টিগুলো পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে, যা দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের মাত্রা বাড়িয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা স্বীকৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে এই ফলাফল একটি ইতিবাচক সূচক হিসেবে কাজ করবে।



