চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল সড়কের চৌরাস্তা মোড়ে রাত ১টার দিকে একটি বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ের ওপর উল্টে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্য আব্দুল জব্বার নিহত হয়। ঘটনাটি ১৩ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাতে ঘটেছে এবং একই সময়ে বাসে সাঁতার কাটা ২৩ জন আনসার সদস্যও সাড়া দিয়েছে।
বসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বাসটি সড়কের পাশে থাকা রেলিংয়ে উঠে উল্টে যায়, ফলে গতি হ্রাস না পেয়ে গাঢ় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। দুর্ঘটনা স্থানে উপস্থিত জরুরি সেবা দল দ্রুত কাজ করে, তবে আব্দুল জব্বারকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
আব্দুল জব্বার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া গ্রাম থেকে আসা একজন কর্মী ছিলেন, তিনি পতেঙ্গার মেঘনা পেট্রোলিয়ামে কর্মরত এবং অঙ্গীভূত আনসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পরিবারকে শোকের সংবাদ জানানো হয় এবং আত্মার মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করা হয়।
বসের উল্টে যাওয়ায় মোট সাতজন সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম বিএনএস হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি এবং বাকি চারজন চট্টগ্রাম এইচডিইউ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণাধীন। অবশিষ্ট কিছু সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ শোক প্রকাশ করে, মৃত সদস্যের আত্মার মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি একই সঙ্গে আহত সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
বহুদিনের পর, দলের উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, আহতদের মধ্যে তিনজন আইসিইউতে এবং সাতজন এইচডিইউতে ভর্তি রয়েছে, যদিও কিছু সূত্রে সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্যান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। রেকর্ডেড সিসিটিভি ফুটেজ, বাসের ড্রাইভারের বিবৃতি এবং রেলিংয়ের অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফল দেখায়, বাসের ব্রেক সিস্টেমে ত্রুটি এবং অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।
অনুসন্ধান চলাকালীন, ট্রাফিক পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল চালক ও যাত্রীদের থেকে বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করছে। এছাড়া, রেলিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং সড়কের নিরাপত্তা মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনি দিক থেকে, ট্রাফিক আইন অনুযায়ী দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়বদ্ধ হতে পারেন। বর্তমানে, ট্রাফিক পুলিশ মামলাটি রেজিস্টার করেছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনানিরিখ নির্ধারিত হবে, যা পরবর্তী সপ্তাহে জানানো হবে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বিভাগও সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা রাস্তায় গতি সীমা মেনে চলা, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং রেলিংয়ের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের উচ্চতর কর্মকর্তারা সদস্যদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং জরুরি সেবা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, দুর্ঘটনা একজনের প্রাণ হারানো এবং সাতজনের আঘাতের মাধ্যমে সমাজকে শোকের মধ্যে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং চলমান তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব নির্ধারণের আশা করা হচ্ছে।



