১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হলেন। দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বিশাল জয় অর্জন করেছে। এই মুহূর্তে তিনি অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পরপরই দলীয় কর্মীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু করার নির্দেশ দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অপরাধমূলক কাজ, তা যেকোনো ব্যক্তি বা নেতারই হোক না কেন, সহ্য করা হবে না। দলের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জোর দেন। এই অবস্থানকে তিনি দলের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের মূল নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এ ধরনের কঠোর নীতি দেশের আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদী।
বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকে তিনি জনগণের বিএনপি’র প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনার প্রতি আস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। নির্বাচনের ফলাফলকে “ল্যান্ডস্লাইড বিজয়” বলে বর্ণনা করে তিনি জানান, এই জয়টি দলটির নীতি-নির্ধারণের বৈধতা নিশ্চিত করে। ফলে ভবিষ্যতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপের জন্য শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাওয়া যাবে।
জামায়াত‑ই‑ইসলামির সাম্প্রতিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখন গণতন্ত্র দমন হয় এবং মানুষের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হয়, তখন চরমপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের অগ্রগতি স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি জোরদার করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে জামায়াতের সাফল্যকে সরাসরি তার নীতি-দোষের ফলাফল হিসেবে তিনি উপস্থাপন করেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশী জনগণ ইতিমধ্যে এই গোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি’র দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জনগণপ্রিয় নীতি এই প্রত্যাখ্যানকে দৃঢ় করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
রংপুর বিভাগে জামায়াতের আসন বৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বহু কারণের কথা স্বীকার করেন, তবে উল্লেখ করেন যে বৃহত্তর দিনাজপুরে দলটি কোনো আসন জিততে পারেনি। এই ফলাফলকে তিনি নির্বাচনী গতিবিদ্যা ও স্থানীয় রাজনৈতিক গতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেন। ফলে জামায়াতের সামগ্রিক প্রভাব সীমিত রয়ে গেছে।
জুলাই জাতীয় চাটার বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি বিএনপি’র অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দলটির ৩১ পয়েন্টের এজেন্ডা রয়েছে, যা ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে বলে তিনি জানান। এই এজেন্ডা দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি। এজেন্ডার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বহু বিষয়ই জুলাই চাটার অধীনে সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা নতুন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলছেন, এই নীতি-নির্ধারণগুলোকে সময়মতো বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে।
অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছ, জনগণমুখী এবং ন্যায়সঙ্গত রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপি নেতিবাচক প্রবণতাকে আবারও প্রতিহত করবে। অপরাধের শূন্য সহনশীলতা এবং সংস্কারমূলক এজেন্ডা দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মূল চালিকাশক্তি হবে। এভাবে দলটি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিনি দলীয় নেতৃত্বের ঐক্যকে গুরুত্ব দেন।



