জাতীয় নির্বাচনের এক দিন পর, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহ আজ বিকালে আগারগাঁও, ঢাকা অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে ফলাফল ঘোষণার সমাপনী ভাষণে দেশের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের উচ্ছ্বাস ও সন্তুষ্টি দেশের জন্য এক নতুন সূচনা এনেছে এবং পূর্বের সব অবিশ্বাস ও সন্দেহকে ধুয়ে ফেলেছে।
সানাউল্লাহের মতে, এই ভোটদানকে কোনো সাধারণ নির্বাচন হিসেবে নয়, জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত এক পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মর্যাদা, আন্তর্জাতিক চিত্র, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—allই এই নির্বাচনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে ফলাফল ঘোষণার মুহূর্তে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেন।
কমিশনারের বক্তব্যে তিনি আল্লাহর করুণা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ঈদ উৎসবের মতো উচ্ছ্বাস ও স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে মানুষ ভোট দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ভোটের দিনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘সুপ্রভাত’ হিসেবে স্মরণীয় করা হবে, কারণ এটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ফলাফল ঘোষণার সময় তিনি স্বীকার করেন যে, প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে তা অনিচ্ছাকৃত এবং তা সংশোধনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি আশাবাদী যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কখনোই তার নির্ধারিত পথে থেকে বিচ্যুত হবে না এবং ভবিষ্যতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আরও উন্নত উদাহরণ স্থাপন করবে।
এই সমাপনী ভাষণের পর, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ফলাফল সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সমাপ্ত করেন এবং ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন। যদিও এখনো কোনো বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তী দিনে প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালকে দেশের ইতিহাসে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ভোটের মাধ্যমে জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাচন কমিশনারের এই মন্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



